০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের বলুন- এলাকার এমপি আমি, ইশরাক’: মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেন

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | রাজধানী ও অপরাধ

‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদেরকে বলে দেবেন যে এই এলাকার এমপি আমি, ইশরাক। আমরা এসব সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেব না।’—রাজধানীর অন্যতম বড় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ‘ঘুণ্টিঘর’ এলাকায় সরাসরি মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে এমনই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সম্প্রতি তার নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে একটি ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

একনজরে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান:

বিবরণতথ্য
মূল ব্যক্তিইশরাক হোসেন (সংসদ সদস্য, ঢাকা-৬)
অভিযানের স্থানঢাকা-৬ এর অন্তর্গত ‘ঘুণ্টিঘর’ এবং সংলগ্ন রেললাইন এলাকা
মূল লক্ষ্যএলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলারদের উচ্ছেদ
গৃহীত ব্যবস্থা৬ মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং আটকদের আইনের হাতে সোপর্দ
নেতার বার্তামাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশ

‘ঘুণ্টিঘর’ মাদকের স্পট উচ্ছেদ ও কঠোর হুঁশিয়ারি

ভিডিওতে দেখা যায়, রেললাইনের পাশের বস্তি ও ঘুণ্টিঘর এলাকায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে এনেছেন স্থানীয়রা। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, “এই ঘুণ্টিঘর ঢাকা শহরের অন্যতম বড় একটি মাদকের স্পটে পরিণত হয়েছিল। এখানকার এমপি কে? আমি ইশরাক। এই বাংলাদেশে আর কোনো মাদক আমরা বরদাশত করব না।”

তিনি আরও জানান যে, সাধারণ মানুষ বা স্বেচ্ছাসেবকরা হুট করেই এই অভিযান চালায়নি। গত ছয় মাস ধরে তারা গোপনে এই এলাকার মাদক চক্রের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং যারা বাইরে থেকে এখানে মাদক সাপ্লাই দিতে আসে, তাদেরও তালিকা করা হয়েছে।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান

মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষোভে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে মারার জন্য আসিনি। আমাদের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। তোমরা যারা এসব করছ, তোমাদেরকে বিশেষ হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে, তারা কোর্টে যাবে এবং তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আটককৃতদের আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সরাসরি মাঠে নেমে নিজের এলাকার মাদকের আখড়া উচ্ছেদ করার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সাধারণত এ ধরনের অভিযানে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় (মব জাস্টিস), কিন্তু ইশরাক হোসেন যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে অভিযুক্তদের আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। জনপ্রতিনিধিরা যদি নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে এমন সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তবে সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৫২৩ Time View

‘যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের বলুন- এলাকার এমপি আমি, ইশরাক’: মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেন

Update Time : ০৯:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | রাজধানী ও অপরাধ

‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদেরকে বলে দেবেন যে এই এলাকার এমপি আমি, ইশরাক। আমরা এসব সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেব না।’—রাজধানীর অন্যতম বড় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ‘ঘুণ্টিঘর’ এলাকায় সরাসরি মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে এমনই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সম্প্রতি তার নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে একটি ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

একনজরে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান:

বিবরণতথ্য
মূল ব্যক্তিইশরাক হোসেন (সংসদ সদস্য, ঢাকা-৬)
অভিযানের স্থানঢাকা-৬ এর অন্তর্গত ‘ঘুণ্টিঘর’ এবং সংলগ্ন রেললাইন এলাকা
মূল লক্ষ্যএলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলারদের উচ্ছেদ
গৃহীত ব্যবস্থা৬ মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং আটকদের আইনের হাতে সোপর্দ
নেতার বার্তামাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশ

‘ঘুণ্টিঘর’ মাদকের স্পট উচ্ছেদ ও কঠোর হুঁশিয়ারি

ভিডিওতে দেখা যায়, রেললাইনের পাশের বস্তি ও ঘুণ্টিঘর এলাকায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে এনেছেন স্থানীয়রা। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, “এই ঘুণ্টিঘর ঢাকা শহরের অন্যতম বড় একটি মাদকের স্পটে পরিণত হয়েছিল। এখানকার এমপি কে? আমি ইশরাক। এই বাংলাদেশে আর কোনো মাদক আমরা বরদাশত করব না।”

তিনি আরও জানান যে, সাধারণ মানুষ বা স্বেচ্ছাসেবকরা হুট করেই এই অভিযান চালায়নি। গত ছয় মাস ধরে তারা গোপনে এই এলাকার মাদক চক্রের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং যারা বাইরে থেকে এখানে মাদক সাপ্লাই দিতে আসে, তাদেরও তালিকা করা হয়েছে।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান

মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষোভে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে মারার জন্য আসিনি। আমাদের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। তোমরা যারা এসব করছ, তোমাদেরকে বিশেষ হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে, তারা কোর্টে যাবে এবং তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আটককৃতদের আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সরাসরি মাঠে নেমে নিজের এলাকার মাদকের আখড়া উচ্ছেদ করার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সাধারণত এ ধরনের অভিযানে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় (মব জাস্টিস), কিন্তু ইশরাক হোসেন যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে অভিযুক্তদের আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। জনপ্রতিনিধিরা যদি নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে এমন সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তবে সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব