০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবলা প্রাণীর সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: ফ্রি চিকিৎসাসহ অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছে ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’

ছবি: ফাইল ফটো (বনানীতে ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক)

বেঙ্গল আই ডেস্ক | পরিবেশ ও প্রাণীকল্যাণ

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে তার মানবিকতা ও অবলা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসায়। সেই মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করে দেশজুড়ে প্রাণিসেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিচালিত ‘বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। বছরে চার শতাধিক সাপ উদ্ধার থেকে শুরু করে পথকুকুরের চিকিৎসা, আটকেপড়া বিড়াল উদ্ধার কিংবা পাখিদের আবাসনের ব্যবস্থা— সব ক্ষেত্রেই প্রাণী অধিকার রক্ষায় কাজ করে সবার নজর কেড়েছে সংগঠনটি।

একনজরে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম:

বিবরণতথ্য
সংগঠনের নামবাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন
পৃষ্ঠপোষক ও পরিচালকপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আহ্বায়কআদনান আজাদ (বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী)
বার্ষিক উদ্ধার কার্যক্রমবছরে ৪ শতাধিক সাপসহ অসংখ্য প্রাণী
উল্লেখযোগ্য সেবাপথকুকুর, বানর ও ঘোড়ার চিকিৎসা, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং পাখিদের আবাসন
মূল স্লোগান“দেশ হোক সকল প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল”
জরুরি সেবার হটলাইন০১৩৪৬৯৯০২৪৪ (অ্যাম্বুলেন্সের জন্য)

বহুমুখী প্রাণিসেবায় অনন্য উদ্যোগ

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য অবলা প্রাণীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পথকুকুরকে টিকাদান, আহত বানরের চিকিৎসা এবং বেওয়ারিশ ঘোড়ার দেখভালের মতো ব্যতিক্রমী কাজ করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির আহ্বায়ক ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আদনান আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স প্রতিদিন অসহায় ও আহত প্রাণী উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাণীদের জন্য সুষম খাদ্য বিতরণসহ অসুস্থ প্রাণীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও প্রশংসা

অ্যাসোসিয়েশনের দ্রুত সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষও। রাজধানীর আফতাবনগরের বাসিন্দা নিশাত তাসনীম তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “একটি পথকুকুর আহত হওয়ার পরপরই অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনে কল দিই। তারা তৎক্ষণাৎ কুকুরটি উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে। দেশে প্রাণীদের অধিকার রক্ষায় আরও সংগঠন থাকলেও এই অ্যাসোসিয়েশন সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।”

সেবার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ ও ভুয়া কল

ভালো কাজের পথে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছেন আদনান আজাদ। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ কিছুটা সন্দেহপ্রবণ। অনেকেই যাচাই করার জন্য অকারণে কল করে ‘প্র্যাঙ্ক’ করেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার পর দেখা যায় কিছুই ঘটেনি। তখন তারা হাসতে হাসতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অ্যাম্বুলেন্স আসলেই কাজ করে কি না, তা দেখার জন্যই কল করেছিলাম।”

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বন বা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বাইরে একজন সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরাসরি প্রাণীকল্যাণে এমন কাজ বিশ্ব রাজনীতিতেই বিরল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র কেবল মানুষের জন্যই নয়, বরং প্রতিটি প্রাণের জন্যই নিরাপদ হওয়া উচিত। তবে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। স্রেফ কৌতূহল মেটাতে বা যাচাই করার নামে ভুয়া কল করে অ্যাম্বুলেন্স হয়রানি করলে প্রকৃত বিপদে পড়া একটি প্রাণীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। মানবিক এই উদ্যোগকে সফল করতে সবার দায়িত্বশীল আচরণ একান্ত কাম্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৩৩ Time View

অবলা প্রাণীর সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: ফ্রি চিকিৎসাসহ অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছে ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’

Update Time : ০৮:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: ফাইল ফটো (বনানীতে ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক)

বেঙ্গল আই ডেস্ক | পরিবেশ ও প্রাণীকল্যাণ

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে তার মানবিকতা ও অবলা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসায়। সেই মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করে দেশজুড়ে প্রাণিসেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিচালিত ‘বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। বছরে চার শতাধিক সাপ উদ্ধার থেকে শুরু করে পথকুকুরের চিকিৎসা, আটকেপড়া বিড়াল উদ্ধার কিংবা পাখিদের আবাসনের ব্যবস্থা— সব ক্ষেত্রেই প্রাণী অধিকার রক্ষায় কাজ করে সবার নজর কেড়েছে সংগঠনটি।

একনজরে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম:

বিবরণতথ্য
সংগঠনের নামবাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন
পৃষ্ঠপোষক ও পরিচালকপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আহ্বায়কআদনান আজাদ (বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী)
বার্ষিক উদ্ধার কার্যক্রমবছরে ৪ শতাধিক সাপসহ অসংখ্য প্রাণী
উল্লেখযোগ্য সেবাপথকুকুর, বানর ও ঘোড়ার চিকিৎসা, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং পাখিদের আবাসন
মূল স্লোগান“দেশ হোক সকল প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল”
জরুরি সেবার হটলাইন০১৩৪৬৯৯০২৪৪ (অ্যাম্বুলেন্সের জন্য)

বহুমুখী প্রাণিসেবায় অনন্য উদ্যোগ

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য অবলা প্রাণীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পথকুকুরকে টিকাদান, আহত বানরের চিকিৎসা এবং বেওয়ারিশ ঘোড়ার দেখভালের মতো ব্যতিক্রমী কাজ করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির আহ্বায়ক ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আদনান আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স প্রতিদিন অসহায় ও আহত প্রাণী উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাণীদের জন্য সুষম খাদ্য বিতরণসহ অসুস্থ প্রাণীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও প্রশংসা

অ্যাসোসিয়েশনের দ্রুত সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষও। রাজধানীর আফতাবনগরের বাসিন্দা নিশাত তাসনীম তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “একটি পথকুকুর আহত হওয়ার পরপরই অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনে কল দিই। তারা তৎক্ষণাৎ কুকুরটি উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে। দেশে প্রাণীদের অধিকার রক্ষায় আরও সংগঠন থাকলেও এই অ্যাসোসিয়েশন সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।”

সেবার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ ও ভুয়া কল

ভালো কাজের পথে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছেন আদনান আজাদ। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ কিছুটা সন্দেহপ্রবণ। অনেকেই যাচাই করার জন্য অকারণে কল করে ‘প্র্যাঙ্ক’ করেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার পর দেখা যায় কিছুই ঘটেনি। তখন তারা হাসতে হাসতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অ্যাম্বুলেন্স আসলেই কাজ করে কি না, তা দেখার জন্যই কল করেছিলাম।”

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বন বা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বাইরে একজন সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরাসরি প্রাণীকল্যাণে এমন কাজ বিশ্ব রাজনীতিতেই বিরল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র কেবল মানুষের জন্যই নয়, বরং প্রতিটি প্রাণের জন্যই নিরাপদ হওয়া উচিত। তবে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। স্রেফ কৌতূহল মেটাতে বা যাচাই করার নামে ভুয়া কল করে অ্যাম্বুলেন্স হয়রানি করলে প্রকৃত বিপদে পড়া একটি প্রাণীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। মানবিক এই উদ্যোগকে সফল করতে সবার দায়িত্বশীল আচরণ একান্ত কাম্য।