নাহিদ রানার ৫ উইকেট ও তানজিদ তামিমের তাণ্ডব; মিরপুরে স্রেফ উড়ে গেল পাকিস্তান
ক্রীড়া প্রতিবেদক | মিরপুর, ঢাকা
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আজ যেন এক রূপকথার গল্প লিখল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দেওয়া ১১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৫ ওভার ১ বলে জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে বলের হিসেবে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী এই জয়টি এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন এক মাইলফলক।
নাহিদ রানার আগুনের গোল্লায় কুপোকাত পাকিস্তান টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। মাত্র ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। নাহিদ রানা একাই ৫ উইকেট শিকার করেন মাত্র ২৪ রান খরচায়, যা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নাহিদের হাতে বল তুলে দিলে শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। নিজের প্রথম ওভারেই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে (২৭) ফিরিয়ে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। এরপর টানা চার ওভারে শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফিরিয়ে পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার একাই ধসিয়ে দেন এই ডানহাতি পেসার।
মিরাজ ও তাসকিনের আঘাত নাহিদের তাণ্ডবের পর স্পিন ঘূর্ণি নিয়ে হাজির হন অধিনায়ক মিরাজ। তিনি শিকার করেন আব্দুল সামাদ, হোসাইন তালাত ও শাহিন আফ্রিদির উইকেট। মাঝে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। শেষ উইকেটে ফাহিম আশরাফের লড়াকু ৩৭ রান পাকিস্তানকে কোনোমতে ১১৪ রান পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
তানজিদ তামিমের ব্যাটিং তাণ্ডব ১১৫ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার সাইফ হাসানকে (৪) দ্রুত হারালেও রান তোলার গতিতে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। মাত্র ৩২ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় মাত্র ৩২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ধীরস্থির ব্যাটিং করে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
ভেঙে গেল ২০১৫ সালের রেকর্ড এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিল ২০১৫ সালে, যেখানে লক্ষ্য তাড়া করতে ৩৯.৩ ওভার সময় লেগেছিল। আজ মাত্র ১৫.১ ওভারে সেই জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।





















