পর্যটকদের জন্য খুললো সেন্টমার্টিন, তবে ৫-৬ তারিখ পর্যন্ত চলছে না জাহাজ
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও পর্যটন
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকদের বরণ করে নিতে এরই মধ্যে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলো। তবে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও এখনো শুরু হয়নি জাহাজ চলাচল। ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চালুর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা, ফলে এই কয়েকদিন পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ট্রলার কিংবা স্পিডবোটের ওপরই ভরসা করতে হবে।
একনজরে সেন্টমার্টিন পর্যটন মৌসুম (২০২৬-২০২৭):
| বিবরণ | তথ্য |
| পর্যটন মৌসুম শুরু | ১ নভেম্বর ২০২৬ |
| মৌসুমের মেয়াদ (নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী) | ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত |
| দৈনিক সর্বোচ্চ পর্যটক ধারণক্ষমতা | ৩,৫০০ জন |
| জাহাজ চলাচল শুরুর সম্ভাব্য সময় | ৫ থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ |
| আপাতত যাতায়াতের বিকল্প মাধ্যম | ট্রলার ও স্পিডবোট |
| জাহাজ চলাচলে বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতা | নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স ও বিআইডব্লিউটিএ’র রুট পারমিট আটকে থাকা |
ট্রলার বা স্পিডবোটই আপাতত একমাত্র ভরসা
দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও নিরাপদ নৌযান বা জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়ায় প্রথম কয়েকদিন ভোগান্তিতে পড়বেন দর্শনার্থীরা। ১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত যারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, তাদের ট্রলার বা স্পিডবোটে করেই সমুদ্র পাড়ি দিতে হবে। তবে সাগরে এসব ছোট নৌযানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, সমুদ্রের অবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে।
কেন শুরু হচ্ছে না জাহাজ?
পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে জাহাজ চলাচল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে মাত্র তিনটি জাহাজ। কিন্তু এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বিআইডব্লিউটিএ-এর রুট পারমিট এবং জাহাজ চলাচলের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া, পর্যটকদের টিকিট বিক্রির জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের যে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করার কথা, সেটিও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
সেন্টমার্টিন দ্বীপ খুলে দেওয়ার ঘোষণার সাথে নিরাপদ যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম জাহাজ চলাচলের বিষয়টি সমন্বয় না করা প্রশাসনিক অদক্ষতার একটি বড় উদাহরণ। দৈনিক ৩,৫০০ পর্যটকের যাতায়াতের সীমা নির্ধারণ একটি প্রশংসনীয় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার প্রস্তুত না থাকা এবং রুট পারমিটের জটিলতা প্রমাণ করে যে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের চরম অভাব রয়েছে। নিরাপদ জাহাজ ছাড়া উন্মুক্ত সাগরে ট্রলার বা স্পিডবোটে পর্যটকদের যাতায়াত করতে বাধ্য করাটা যেমন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি এটি পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তির জন্যও নেতিবাচক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক ছাড়পত্রগুলো সম্পন্ন করে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।










