০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি সংস্কারবিরোধী নয়’: সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক | জাতীয় সংসদ

‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে এই মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫)।

সংস্কার আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল সংস্কার আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বানের বিধান রাখা হয়েছে। এর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতির সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো বা ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।”

তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়েছিল, যা পরে সংবিধানে স্বীকৃতি পায়। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। তাই বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাব দেন যে, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সংসদের ভেতরেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত। এই কমিটির মাধ্যমে সব দলের আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে তা সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাই সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না।

বিএনপি সংস্কারের পক্ষে এবং গণভোট প্রসঙ্গ একটি মহল বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই অভিযোগ নাকচ করে স্পষ্ট জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপন করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্কার আদেশ ও গণভোটের বৈধতা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশের সব সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৩:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৬৫ Time View

বিএনপি সংস্কারবিরোধী নয়’: সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব

Update Time : ০৩:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | জাতীয় সংসদ

‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে এই মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫)।

সংস্কার আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল সংস্কার আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বানের বিধান রাখা হয়েছে। এর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতির সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো বা ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।”

তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়েছিল, যা পরে সংবিধানে স্বীকৃতি পায়। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। তাই বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাব দেন যে, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সংসদের ভেতরেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত। এই কমিটির মাধ্যমে সব দলের আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে তা সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাই সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না।

বিএনপি সংস্কারের পক্ষে এবং গণভোট প্রসঙ্গ একটি মহল বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই অভিযোগ নাকচ করে স্পষ্ট জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপন করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্কার আদেশ ও গণভোটের বৈধতা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশের সব সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।