সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের জামিন ‘ভালো সিদ্ধান্ত’: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ভোলা
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন পাওয়াকে একটি ‘ভালো সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো দায়িত্ব’
সাবেক স্পিকারের জামিন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা নিশ্চয়ই সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ ও আইনগত দিক বিবেচনা করেই এই জামিন প্রদান করেছেন। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, এটি একটি ভালো কাজ হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই আমাদের সবার দায়িত্ব এবং আমি মনে করি এই আইনি প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
দলীয় রাজনীতি থেকে অব্যাহতি ও প্রত্যাশা
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পিকার স্পষ্ট করে বলেন, “আমি দলীয় সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। তাই দলীয় রাজনীতির জটিল কোনো বিষয় নিয়ে আমি এখন আর অতটা মাথা ঘামাই না।”
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে, তাদের সবার মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকুক। রাজনীতির মাঠে পারস্পরিক সম্মান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।”
স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার
গত দুই দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো স্বৈরশাসককে কখনোই মেনে নেয়নি। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের দেশের জনগণ রাজনীতি সচেতন এবং তারা গণতন্ত্রের মূল্য বোঝেন। গত ২০ বছর ধরে এ দেশের মানুষ সত্যিকারের গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। অনেক অত্যাচার-নিপীড়ন, গুম ও খুনের ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েও বাংলাদেশের মানুষ দমে থাকেনি। সব নির্যাতন উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসে তারা গণতন্ত্রকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন সারা বিশ্বের মানুষের নজর কেড়েছে এবং মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।”
বর্তমান সরকারের প্রতি আশাবাদ
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করা সরকারের প্রধান কাজ এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সে ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। দলমত নির্বিশেষে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও কেউ যেন অকারণে হেনস্তার শিকার না হয়, এমন পরিবেশ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





















