০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু ধর্ষকদের প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের পর ফাঁসির দাবি সাবেক আইন উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে উত্তাল দেশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এবার শিশু ধর্ষকদের শাস্তি ও দ্রুত বিচার নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

শুক্রবার (২২ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তি এবং দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি জানান।

“প্রকাশ্যে ১০০ দোররা, এরপর ফাঁসি”

ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে লেখেন,

“রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত? তার জন্য মানুষের দুনিয়ায় কোনো শাস্তিই যথেষ্ট নয়। তবে শাস্তি অন্তত এমন হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা ভয় পায় এবং মানুষের মনে কিছুটা শান্তি আসে।”

তিনি আরও বলেন,

“শিশু ধর্ষণ এতোটাই বেড়েছে যে দীর্ঘ বিচার শেষে নিভৃতে ফাঁসি দিলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্যে একশত দোররা (বেত্রাঘাত); এরপর অপরাধী বেঁচে থাকলে ফাঁসি।”

দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

ড. আসিফ নজরুল বলেন, শুধু কঠোর শাস্তি নয়, বিচার দ্রুত শেষ করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি অতীতের আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল এবং মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার শেষ হয়েছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় সেই মামলার মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান

তিনি বলেন,

“আছিয়া ও রামিসাদের মতো মামলায় অপরাধী নরপশুদের দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির হাতে রয়েছে।”

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, হাইকোর্টে শিশু ধর্ষণ মামলার আপিল শুনানির জন্য নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন এবং আপিলেট ডিভিশনে বিশেষ দিনে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

“মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না”

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন,

“মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না। শিশু ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও রায় নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

একইসঙ্গে ধর্ষণ প্রতিরোধে মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

যেভাবে হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতিতে মাথা পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছিল। ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার আরেক অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি সোহেল

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি সোহেল রানা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (২০ মে) রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে নিজ গ্রামের বাড়িতে রামিসার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
২৫৪ Time View

শিশু ধর্ষকদের প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের পর ফাঁসির দাবি সাবেক আইন উপদেষ্টার

Update Time : ১০:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে উত্তাল দেশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এবার শিশু ধর্ষকদের শাস্তি ও দ্রুত বিচার নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

শুক্রবার (২২ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তি এবং দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি জানান।

“প্রকাশ্যে ১০০ দোররা, এরপর ফাঁসি”

ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে লেখেন,

“রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত? তার জন্য মানুষের দুনিয়ায় কোনো শাস্তিই যথেষ্ট নয়। তবে শাস্তি অন্তত এমন হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা ভয় পায় এবং মানুষের মনে কিছুটা শান্তি আসে।”

তিনি আরও বলেন,

“শিশু ধর্ষণ এতোটাই বেড়েছে যে দীর্ঘ বিচার শেষে নিভৃতে ফাঁসি দিলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্যে একশত দোররা (বেত্রাঘাত); এরপর অপরাধী বেঁচে থাকলে ফাঁসি।”

দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

ড. আসিফ নজরুল বলেন, শুধু কঠোর শাস্তি নয়, বিচার দ্রুত শেষ করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি অতীতের আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল এবং মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার শেষ হয়েছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় সেই মামলার মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান

তিনি বলেন,

“আছিয়া ও রামিসাদের মতো মামলায় অপরাধী নরপশুদের দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির হাতে রয়েছে।”

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, হাইকোর্টে শিশু ধর্ষণ মামলার আপিল শুনানির জন্য নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন এবং আপিলেট ডিভিশনে বিশেষ দিনে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

“মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না”

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন,

“মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না। শিশু ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও রায় নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

একইসঙ্গে ধর্ষণ প্রতিরোধে মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

যেভাবে হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতিতে মাথা পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছিল। ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার আরেক অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি সোহেল

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি সোহেল রানা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (২০ মে) রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে নিজ গ্রামের বাড়িতে রামিসার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।