০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের স্বরূপ জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরূক থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শনিবার (৩০ মে) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে আশা প্রকাশ করে বলেন, “শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা ও জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নির্মমভাবে শহীদ হন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপ্রধান এই মহান নেতার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন:

  • মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, যা সমগ্র জাতিকে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
  • মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
  • রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

১৯ দফা কর্মসূচি ও সফল পররাষ্ট্রনীতি

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান বৃদ্ধিতে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা। দেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিনি যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ পরিচালনায় স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:১৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
৫০ Time View

জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি

Update Time : ০১:১৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের স্বরূপ জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরূক থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শনিবার (৩০ মে) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে আশা প্রকাশ করে বলেন, “শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা ও জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নির্মমভাবে শহীদ হন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপ্রধান এই মহান নেতার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন:

  • মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, যা সমগ্র জাতিকে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
  • মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
  • রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

১৯ দফা কর্মসূচি ও সফল পররাষ্ট্রনীতি

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান বৃদ্ধিতে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা। দেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিনি যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ পরিচালনায় স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।