০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিবিড় ঘনিষ্ঠতা ছিল’: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | লক্ষ্মীপুর জীবদ্দশায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গ্রামের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সৃষ্টি করেছিলেন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে লক্ষ্মীপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন

প্রেসিডেন্ট জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল খুব অল্প সময়ের। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি এ দেশ শাসন করেছেন। তবে এই স্বল্প সময়ের শাসনামলেই তিনি একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন।”

মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণা

মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন টগবগে যুবক ছিলেন, তখন দেশের মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, তা আজ সবার সামনে ভেসে উঠছে। যদি তাঁর জন্ম না হতো, তাহলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টকর হতো।”

তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া যদি রণাঙ্গনে যুদ্ধের নেতৃত্ব না দিতেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ডাক না দিতেন, তাহলে বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতেন না। স্বাধীনতার পর দেশে যখন বিভক্তি, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি-দুঃশাসন চলছিল, তখন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াই দেশটাকে নতুনভাবে গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।”

দেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়া পরিবারের ভূমিকা

দেশের প্রতিটি সংকটে জিয়া পরিবারের অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা যতগুলো সংকটের মোকাবিলা করেছি, তার প্রত্যেকটিতে জিয়া পরিবারের অংশগ্রহণ, অর্জন এবং মানুষের পাশে থাকা দৃশ্যমান। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই পরিবারের অবদান ব্যাখ্যা করতে গেলে সারা বছরেও তা শেষ হবে না।”

মানবিক কর্মসূচি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

আলোচনা সভার আগে দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি এবং খাবার বিতরণ করা হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম
  • লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু
  • বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি প্রমুখ।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
৫৫ Time View

‘প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিবিড় ঘনিষ্ঠতা ছিল’: পানিসম্পদ মন্ত্রী

Update Time : ০৯:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | লক্ষ্মীপুর জীবদ্দশায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গ্রামের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সৃষ্টি করেছিলেন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে লক্ষ্মীপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন

প্রেসিডেন্ট জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল খুব অল্প সময়ের। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি এ দেশ শাসন করেছেন। তবে এই স্বল্প সময়ের শাসনামলেই তিনি একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন।”

মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণা

মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন টগবগে যুবক ছিলেন, তখন দেশের মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, তা আজ সবার সামনে ভেসে উঠছে। যদি তাঁর জন্ম না হতো, তাহলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টকর হতো।”

তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া যদি রণাঙ্গনে যুদ্ধের নেতৃত্ব না দিতেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ডাক না দিতেন, তাহলে বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতেন না। স্বাধীনতার পর দেশে যখন বিভক্তি, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি-দুঃশাসন চলছিল, তখন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াই দেশটাকে নতুনভাবে গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।”

দেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়া পরিবারের ভূমিকা

দেশের প্রতিটি সংকটে জিয়া পরিবারের অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা যতগুলো সংকটের মোকাবিলা করেছি, তার প্রত্যেকটিতে জিয়া পরিবারের অংশগ্রহণ, অর্জন এবং মানুষের পাশে থাকা দৃশ্যমান। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই পরিবারের অবদান ব্যাখ্যা করতে গেলে সারা বছরেও তা শেষ হবে না।”

মানবিক কর্মসূচি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

আলোচনা সভার আগে দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি এবং খাবার বিতরণ করা হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম
  • লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু
  • বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি প্রমুখ।