০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এদের একটু শিক্ষা-দীক্ষা দিন’: দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আসিফ মাহমুদের আহ্বান

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অজ্ঞতাপ্রসূত বলে আখ্যায়িত করে উল্টো বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের নিয়োগকৃত প্রশাসকদের ‘শিক্ষা-দীক্ষা’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

যেভাবে অভিযোগের জবাব দিলেন আসিফ মাহমুদ

এর আগে, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছিলেন যে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে গেছেন’।

এই অভিযোগের কড়া সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন:

  • “বাজেট বরাদ্দ দেওয়াকে যদি ‘নিয়ে যাওয়া’ বলা হয়, তবে এটা খুবই ইন্টারেস্টিং। বিএনপির একজন প্রশাসক আসলে ‘নিয়ে যাওয়া’ এবং ‘বরাদ্দ দেওয়া’র মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না।”
  • “এসএসসি পাস কাউকেও যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনিও বুঝবেন রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ খাতের পার্থক্য কী।”
  • “এই খরচের প্রসেসের সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে আমার বা হাসনাত আব্দুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগই নেই। এটা জেলা পরিষদ ডিসির সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আসিফের আহ্বান

প্রশাসকের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি বিএনপির প্রতি এবং তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা এদেরকে একটু শিক্ষা-দীক্ষা দেন। ন্যূনতম লার্নিং প্রয়োজন। এমন লোক দিয়ে আপনারা দেশ বা জেলা কীভাবে চালাবেন?”

রাজস্ব খাত বনাম এডিপি বিশেষ বরাদ্দ

প্রশাসকের দাবিকে ‘কাঁচা মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “রাজস্ব খাত থেকে কারও এলাকায় কোনো ধরনের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই। রাজস্ব খাতের বাজেট বছরের শুরুতেই জেলা পরিষদ ঠিক করে যে তারা কোথায় কতটুকু খরচ করবে। এটা মূলত এডিপির ‘বিশেষ বরাদ্দ’। তো উনি এটাকে রাজস্ব খাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।”

প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেন সভার কার্যবিবরণী

নিজের দাবির সপক্ষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাসিক সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, ওই সভায় উপস্থিতির তালিকা, আলোচ্য সূচি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত রয়েছে।

সেখানে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের টাকা কোথায় খরচ হবে তা নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন:

  • সোলার লাইট স্থাপনের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ।
  • কর্মহীন অসহায় ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ।
  • ১০৪টি বিদ্যালয় এবং ১৪টি কলেজের আসবাবপত্রের জন্য ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ।

এভাবেই বিভিন্ন নথিপত্র ও উদাহরণ তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ প্রমাণ করেন যে, তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা নেননি; বরং সরকারি ওই অর্থগুলো উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বিধি মোতাবেক বাজেট হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
৫৪ Time View

এদের একটু শিক্ষা-দীক্ষা দিন’: দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আসিফ মাহমুদের আহ্বান

Update Time : ১০:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অজ্ঞতাপ্রসূত বলে আখ্যায়িত করে উল্টো বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের নিয়োগকৃত প্রশাসকদের ‘শিক্ষা-দীক্ষা’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

যেভাবে অভিযোগের জবাব দিলেন আসিফ মাহমুদ

এর আগে, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছিলেন যে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে গেছেন’।

এই অভিযোগের কড়া সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন:

  • “বাজেট বরাদ্দ দেওয়াকে যদি ‘নিয়ে যাওয়া’ বলা হয়, তবে এটা খুবই ইন্টারেস্টিং। বিএনপির একজন প্রশাসক আসলে ‘নিয়ে যাওয়া’ এবং ‘বরাদ্দ দেওয়া’র মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না।”
  • “এসএসসি পাস কাউকেও যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনিও বুঝবেন রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ খাতের পার্থক্য কী।”
  • “এই খরচের প্রসেসের সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে আমার বা হাসনাত আব্দুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগই নেই। এটা জেলা পরিষদ ডিসির সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আসিফের আহ্বান

প্রশাসকের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি বিএনপির প্রতি এবং তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা এদেরকে একটু শিক্ষা-দীক্ষা দেন। ন্যূনতম লার্নিং প্রয়োজন। এমন লোক দিয়ে আপনারা দেশ বা জেলা কীভাবে চালাবেন?”

রাজস্ব খাত বনাম এডিপি বিশেষ বরাদ্দ

প্রশাসকের দাবিকে ‘কাঁচা মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “রাজস্ব খাত থেকে কারও এলাকায় কোনো ধরনের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই। রাজস্ব খাতের বাজেট বছরের শুরুতেই জেলা পরিষদ ঠিক করে যে তারা কোথায় কতটুকু খরচ করবে। এটা মূলত এডিপির ‘বিশেষ বরাদ্দ’। তো উনি এটাকে রাজস্ব খাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।”

প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেন সভার কার্যবিবরণী

নিজের দাবির সপক্ষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাসিক সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, ওই সভায় উপস্থিতির তালিকা, আলোচ্য সূচি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত রয়েছে।

সেখানে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের টাকা কোথায় খরচ হবে তা নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন:

  • সোলার লাইট স্থাপনের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ।
  • কর্মহীন অসহায় ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ।
  • ১০৪টি বিদ্যালয় এবং ১৪টি কলেজের আসবাবপত্রের জন্য ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ।

এভাবেই বিভিন্ন নথিপত্র ও উদাহরণ তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ প্রমাণ করেন যে, তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা নেননি; বরং সরকারি ওই অর্থগুলো উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বিধি মোতাবেক বাজেট হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।