‘হাসপাতাল নিজেই এখন আইসিইউতে’: সংসদে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা
“যে হাসপাতালের মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে”—শেরপুর সদর হাসপাতালের করুণ দশার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে জাতীয় সংসদে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে ৭১ বিধিতে ‘জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ’ নোটিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এসব কথা বলেন।
রোগীদের চরম দুর্ভোগ ও বেড সংকট
সংসদে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই সদর হাসপাতাল।
- জেলার চরাঞ্চলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন একজন অসুস্থ ব্যক্তি, মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় হাসপাতালে আসেন, তখন বেড না পেয়ে তাদের মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে দিনের পর দিন কাতরাতে হয়, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
জনবল ও অবকাঠামোগত তীব্র সংকট
হাসপাতালের চরম জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন:
- হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে শূন্য।
- প্রতিদিন প্রায় ৭০০ রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
- হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, কিন্তু তা চালানোর জন্য কোনো চালক নেই।
- রোগীদের সেবার জন্য নয় তলা ভবন থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত লিফটের ব্যবস্থা নেই।
আইসিইউ এখন মাদকসেবীদের আখড়া
করোনাকালীন সময়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটের বেহাল দশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন:
- প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে বর্তমানে সদর হাসপাতালের ওই ইউনিটগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
- দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ইউনিটটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে।
- হাসপাতালের একটি অংশ দালাল, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এর পাশেই থাকা ময়লার ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
নিয়োগে ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাব
হাসপাতালে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডা. সানসিলা জেবরিন বলেন, “২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বারের মতো নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে পরীক্ষাটি বারবার পিছিয়ে যায়।” দ্রুত এই সংকট নিরসনে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।





















