০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন পর্যায়েও মিলছে সাংবাদিকতার কার্ড, প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছাড়াই ইউটিউবে অপপ্রচার: জয়নুল আবদিন ফারুক

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

দেশের প্রায় সব উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও এখন খুব সহজে সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই এসব কার্ড ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে যথেচ্ছভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব কথা বলেন।

সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুকের উদ্বেগ ও দাবি

ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সংসদে এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক বেশ কিছু বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরেন:

  • যোগ্যতার অভাব: তিনি উল্লেখ করেন, যাদের সাংবাদিকতা বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই, যারা কখনও রিপোর্টার ছিলেন না, এমনকি মেট্রিক পাসও করেননি—তাদের হাতেও সাংবাদিকতার কার্ড পৌঁছে যাচ্ছে।
  • যথেচ্ছ প্রচার: এসব ভুয়া কার্ডধারী ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কোনো জবাবদিহি ছাড়াই যা খুশি তাই প্রচার করে বেড়াচ্ছে।
  • তদন্তের দাবি: কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড দিচ্ছে, কার্ডধারীদের লেখাপড়া কতটুকু এবং কারা এই পরিচয় ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে—এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার বলে তিনি দাবি জানান।

কার্যকর নীতিমালার তাগিদ

গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি রক্ষায় একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “এ বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে কার্যকর কোনো নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না, তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জবাব

সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সংসদে সরকারের অবস্থান ও পদক্ষেপের কথা জানান।

  • তিনি বলেন, “আমরা মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) নিয়ে কাজ করছি।”
  • প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, যারা প্রকৃত সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, মূলত তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য বা মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে থাকেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
৫০ Time View

ইউনিয়ন পর্যায়েও মিলছে সাংবাদিকতার কার্ড, প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছাড়াই ইউটিউবে অপপ্রচার: জয়নুল আবদিন ফারুক

Update Time : ০৬:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

দেশের প্রায় সব উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও এখন খুব সহজে সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই এসব কার্ড ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে যথেচ্ছভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব কথা বলেন।

সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুকের উদ্বেগ ও দাবি

ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সংসদে এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক বেশ কিছু বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরেন:

  • যোগ্যতার অভাব: তিনি উল্লেখ করেন, যাদের সাংবাদিকতা বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই, যারা কখনও রিপোর্টার ছিলেন না, এমনকি মেট্রিক পাসও করেননি—তাদের হাতেও সাংবাদিকতার কার্ড পৌঁছে যাচ্ছে।
  • যথেচ্ছ প্রচার: এসব ভুয়া কার্ডধারী ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কোনো জবাবদিহি ছাড়াই যা খুশি তাই প্রচার করে বেড়াচ্ছে।
  • তদন্তের দাবি: কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড দিচ্ছে, কার্ডধারীদের লেখাপড়া কতটুকু এবং কারা এই পরিচয় ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে—এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার বলে তিনি দাবি জানান।

কার্যকর নীতিমালার তাগিদ

গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি রক্ষায় একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “এ বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে কার্যকর কোনো নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না, তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জবাব

সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সংসদে সরকারের অবস্থান ও পদক্ষেপের কথা জানান।

  • তিনি বলেন, “আমরা মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) নিয়ে কাজ করছি।”
  • প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, যারা প্রকৃত সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, মূলত তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য বা মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে থাকেন।