০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য যায় ময়লার ঝুড়িতে: সংসদে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। এটি দেশের সামগ্রিক অপচয়ের চিত্র হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম ও সাইলোতে খাদ্যশস্যের অপচয় বা ঘাটতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদে এমপির প্রশ্ন ও প্রতিমন্ত্রীর জবাব

অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম তাঁর লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, “ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় তার একটি বড় অংশই চলে যায় ময়লার ঝুড়িতে, যা প্রায় ৩৫ লাখ টন। দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?”

এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী স্পষ্ট করেন যে, ইউনেপের প্রতিবেদনে যে ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের কথা বলা হয়েছে, তা সামগ্রিক সংখ্যা।

সরকারি গুদামে কমছে অপচয়

সরকারি ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান:

  • খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন খাতে বিতরণের সময় ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।
  • তবে নতুন ও আধুনিক সাইলো এবং খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে।
  • সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে কড়া নজর দেওয়া হয়েছে। এসব বহুমুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকারিভাবে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে সরকারি খাদ্যশস্যের ঘাটতি হ্রাস

সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয় কমার একটি পরিসংখ্যানও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

  • ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর: মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসেবে মাত্র শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।
  • ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর: এই অপচয়ের পরিমাণ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টনে, যা শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, আগের অর্থবছরের তুলনায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
৫৮ Time View

প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য যায় ময়লার ঝুড়িতে: সংসদে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৫:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। এটি দেশের সামগ্রিক অপচয়ের চিত্র হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম ও সাইলোতে খাদ্যশস্যের অপচয় বা ঘাটতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদে এমপির প্রশ্ন ও প্রতিমন্ত্রীর জবাব

অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম তাঁর লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, “ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় তার একটি বড় অংশই চলে যায় ময়লার ঝুড়িতে, যা প্রায় ৩৫ লাখ টন। দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?”

এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী স্পষ্ট করেন যে, ইউনেপের প্রতিবেদনে যে ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের কথা বলা হয়েছে, তা সামগ্রিক সংখ্যা।

সরকারি গুদামে কমছে অপচয়

সরকারি ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান:

  • খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন খাতে বিতরণের সময় ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।
  • তবে নতুন ও আধুনিক সাইলো এবং খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে।
  • সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে কড়া নজর দেওয়া হয়েছে। এসব বহুমুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকারিভাবে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে সরকারি খাদ্যশস্যের ঘাটতি হ্রাস

সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয় কমার একটি পরিসংখ্যানও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

  • ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর: মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসেবে মাত্র শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।
  • ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর: এই অপচয়ের পরিমাণ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টনে, যা শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, আগের অর্থবছরের তুলনায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।