প্রবাসীদের জন্য আসছে ব্যাংকিং সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী সিটি’
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ব্যাংকিং সুবিধা আরও সহজ করতে দেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু এবং তাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের লক্ষ্যে ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালও নির্মাণ করা হবে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এসব যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান।
কী থাকছে ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী সিটি’তে?
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তারা প্রত্যাশিত সেবা থেকে অনেক সময়ই বঞ্চিত হন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের কল্যাণে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
- প্রবাসী কার্ড: নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা খুব সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
- প্রবাসী সিটি: প্রবাসীদের নিরাপদ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এই সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে একটি প্রকল্প শুরু করে পরবর্তীতে তা পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
- বিশেষায়িত হাসপাতাল: প্রবাসীদের সুচিকিৎসার জন্য রাজধানীর গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব জমিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন
সংসদে প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন আর্থিক সহায়তার চিত্র তুলে ধরেন।
- তিনি জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা হিসেবে ৫ হাজার ২২৫ জনকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
- এছাড়া বিদেশফেরত প্রায় আড়াই লাখ কর্মীকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
বিমানবন্দরে হয়রানি রোধ ও আইনি সুরক্ষা
প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরে ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
- ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামেও এই সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
- বিদেশে কর্মীরা নির্যাতন বা অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হলে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ১০টি দেশের স্বনামধন্য ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
- নারী কর্মীদের সুরক্ষায় সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে তিনটি ‘সেফ হোম’ পরিচালিত হচ্ছে।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও রিক্রুটিং এজেন্সির গ্রেডিং
নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।
- মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: সিন্ডিকেট রোধে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোরতা: বর্তমানে দেশে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও কঠোর যাচাই-বাছাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। তাই শৃঙ্খলার স্বার্থে এসব এজেন্সির জন্য ‘গ্রেডিং ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যেকোনো প্রয়োজনে প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক সেবার জন্য দেশে টোল-ফ্রি কল সেন্টার ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।





















