লবণের ন্যায্যমূল্য, ৬ লেন মহাসড়ক ও ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রীর সফরে কক্সবাজারবাসীর ৩ বড় দাবি
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজকের (১৩ জুন) কক্সবাজার সফরকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে উপকূলীয় জেলাটিতে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজার তথা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা দাবি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব মেগা দাবি তোলা হবে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের অর্থনীতি ও অবকাঠামো বদলে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩টি প্রধান দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে: ১. লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: স্থানীয় লবণ চাষিদের সুরক্ষায় লবণের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি। ২. ৬ লেনের মহাসড়ক: ক্রমবর্ধমান পর্যটন ও বাণিজ্য বিবেচনায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেন থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ছয় লেনে উন্নীত করা। ৩. মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়: সমুদ্রসম্পদের সঠিক ব্যবহার ও গবেষণার জন্য কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং যৌক্তিক এসব দাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।”
মাতামুহুরী নতুন উপজেলা ও থানা গঠন
কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের আরেকটি বড় দাবি পূরণের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময়ই কক্সবাজারের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চকরিয়া ভেঙে ‘মাতামুহুরী’ নামে নতুন উপজেলা সৃষ্টির প্রস্তাব জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির (নিকার) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সেখানে দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই সফরে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় নিজে বৃক্ষরোপণ করার মাধ্যমে দেশব্যাপী মেগা উদ্যোগ ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
জনগণের প্রত্যাশা ও ইশতেহার বাস্তবায়ন
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এটাই প্রথম কক্সবাজার সফর উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে শত ব্যস্ততার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি। তাই জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। এ অঞ্চলের মানুষ তাঁকে সরাসরি দেখবেন এবং তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শুনবেন। চকরিয়ার জনসভায় আমরা আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরব। আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে দ্রুতই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।”





















