০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন, ডাভোসে যাওয়ার আমন্ত্রণ

বেঙ্গল আই ডেস্ক | দালিয়ান, চীন

চীনের দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জভিংগি। সাক্ষাতের শুরুতে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বাংলাদেশের প্রস্তাব

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

একইসঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য বদ্বীপ (ডেল্টা) রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সুরক্ষায় ডব্লিউইএফ-কে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান।

পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান:

  • বনায়ন কর্মসূচি: বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
  • নদী ও খাল পুনঃখনন: দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং বন্যার ঝুঁকি হ্রাসের কাজ চলমান রয়েছে।
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কর সুবিধা: নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা প্রদান করেছে। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাভোস সম্মেলনে আমন্ত্রণ ও ডব্লিউইএফ-এর আশ্বাস

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও সময়োপযোগী উদ্যোগগুলোকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

  • বিনিয়োগের সম্ভাবনা: তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করবে।”
  • সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
  • ডাভোসে আমন্ত্রণ: সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আগামী বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:৫২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৬২ Time View

প্রধানমন্ত্রীকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন, ডাভোসে যাওয়ার আমন্ত্রণ

Update Time : ০৭:৫২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | দালিয়ান, চীন

চীনের দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জভিংগি। সাক্ষাতের শুরুতে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বাংলাদেশের প্রস্তাব

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

একইসঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য বদ্বীপ (ডেল্টা) রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সুরক্ষায় ডব্লিউইএফ-কে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান।

পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান:

  • বনায়ন কর্মসূচি: বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
  • নদী ও খাল পুনঃখনন: দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং বন্যার ঝুঁকি হ্রাসের কাজ চলমান রয়েছে।
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কর সুবিধা: নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা প্রদান করেছে। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাভোস সম্মেলনে আমন্ত্রণ ও ডব্লিউইএফ-এর আশ্বাস

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও সময়োপযোগী উদ্যোগগুলোকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

  • বিনিয়োগের সম্ভাবনা: তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করবে।”
  • সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
  • ডাভোসে আমন্ত্রণ: সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আগামী বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।