০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির রেকর্ড গড়া গোল ভিএআর বিতর্কে কী বলছে ইএসপিএন ও রেফারি প্যানেল?

বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা

বিশ্ব ফুটবলে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচে লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন এই আলোচনা।

অস্ট্রিয়ার ক্ষোভ ও ফাউলের অভিযোগ

ম্যাচে মেসি যখন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা গোল উদ্‌যাপনে ব্যস্ত, তখন অস্ট্রিয়া শিবিরে দেখা যায় হতাশা ও ক্ষোভ।

  • অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার জাভার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
  • বলের দখল বদল: অস্ট্রিয়ার দাবি, ওই ফাউলের ফলেই বলের দখল বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আক্রমণ থেকে গোলটি আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা।

ভিএআর প্যানেলের সিদ্ধান্ত ও রেফারির অবস্থান

মাঠের রেফারি অস্ট্রিয়ার আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরবর্তীতে ভিএআর পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেও রেফারির সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন মনে করেনি।

ভিএআর প্যানেলের যুক্তি: প্যানেল গোলের আগের পুরো ‘অ্যাটাকিং ফেজ’ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে। তারা নিশ্চিত হয় যে, ম্যাক অ্যালিস্টার ও শ্লাগারের মধ্যে হওয়া শারীরিক সংঘর্ষকে স্পষ্ট ফাউল হিসেবে গণ্য করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এটিকে রেফারির ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ হিসেবে বিবেচনা না করায় অন-ফিল্ড রিভিউর জন্য রেফারিকে পিচসাইড মনিটরেও ডাকা হয়নি।

ইএসপিএনের বিশ্লেষণ: গোলটি কেন বৈধ?

ক্রীড়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণেও ভিএআরের এই সিদ্ধান্তকে সঠিক ও নিয়মসম্মত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে:

  • খেলোয়াড়ের নিজস্ব গতি: সংঘর্ষের সময় শ্লাগারের অবস্থান স্থির ছিল না; বরং তার নিজস্ব গতি ও শরীরী ভরবেগও এই সংঘর্ষের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
  • কঠোর মানদণ্ড: চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরের হস্তক্ষেপের মানদণ্ড তুলনামূলকভাবে কঠোর রাখা হয়েছে। মাঠের রেফারি কোনো ঘটনাকে ফাউল নয় বলে সিদ্ধান্ত দিলে, সেটিকে বদলাতে ভিএআরের কাছে ১০০ ভাগ স্পষ্ট ও নির্ভুল প্রমাণ থাকতে হয়।

এই ঘটনায় ফাউলের পক্ষে তেমন কোনো অকাট্য প্রমাণ না পাওয়ায় মেসির গোল বহাল রাখাই ছিল যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। ফলে অস্ট্রিয়া শিবিরের হতাশা ও বিতর্ক থাকলেও, ইএসপিএন ও ভিএআর প্যানেলের মূল্যায়নে মেসির রেকর্ড গড়া গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ বলেই স্বীকৃতি পেয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
৭৩ Time View

মেসির রেকর্ড গড়া গোল ভিএআর বিতর্কে কী বলছে ইএসপিএন ও রেফারি প্যানেল?

Update Time : ০৭:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা

বিশ্ব ফুটবলে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচে লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন এই আলোচনা।

অস্ট্রিয়ার ক্ষোভ ও ফাউলের অভিযোগ

ম্যাচে মেসি যখন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা গোল উদ্‌যাপনে ব্যস্ত, তখন অস্ট্রিয়া শিবিরে দেখা যায় হতাশা ও ক্ষোভ।

  • অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার জাভার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
  • বলের দখল বদল: অস্ট্রিয়ার দাবি, ওই ফাউলের ফলেই বলের দখল বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আক্রমণ থেকে গোলটি আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা।

ভিএআর প্যানেলের সিদ্ধান্ত ও রেফারির অবস্থান

মাঠের রেফারি অস্ট্রিয়ার আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরবর্তীতে ভিএআর পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেও রেফারির সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন মনে করেনি।

ভিএআর প্যানেলের যুক্তি: প্যানেল গোলের আগের পুরো ‘অ্যাটাকিং ফেজ’ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে। তারা নিশ্চিত হয় যে, ম্যাক অ্যালিস্টার ও শ্লাগারের মধ্যে হওয়া শারীরিক সংঘর্ষকে স্পষ্ট ফাউল হিসেবে গণ্য করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এটিকে রেফারির ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ হিসেবে বিবেচনা না করায় অন-ফিল্ড রিভিউর জন্য রেফারিকে পিচসাইড মনিটরেও ডাকা হয়নি।

ইএসপিএনের বিশ্লেষণ: গোলটি কেন বৈধ?

ক্রীড়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণেও ভিএআরের এই সিদ্ধান্তকে সঠিক ও নিয়মসম্মত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে:

  • খেলোয়াড়ের নিজস্ব গতি: সংঘর্ষের সময় শ্লাগারের অবস্থান স্থির ছিল না; বরং তার নিজস্ব গতি ও শরীরী ভরবেগও এই সংঘর্ষের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
  • কঠোর মানদণ্ড: চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরের হস্তক্ষেপের মানদণ্ড তুলনামূলকভাবে কঠোর রাখা হয়েছে। মাঠের রেফারি কোনো ঘটনাকে ফাউল নয় বলে সিদ্ধান্ত দিলে, সেটিকে বদলাতে ভিএআরের কাছে ১০০ ভাগ স্পষ্ট ও নির্ভুল প্রমাণ থাকতে হয়।

এই ঘটনায় ফাউলের পক্ষে তেমন কোনো অকাট্য প্রমাণ না পাওয়ায় মেসির গোল বহাল রাখাই ছিল যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। ফলে অস্ট্রিয়া শিবিরের হতাশা ও বিতর্ক থাকলেও, ইএসপিএন ও ভিএআর প্যানেলের মূল্যায়নে মেসির রেকর্ড গড়া গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ বলেই স্বীকৃতি পেয়েছে।