০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঐকমত্য: ‘নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে বিশ্ব যে সম্মান দিয়েছে তা দেশের জন্য গৌরবের

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের অত্যন্ত সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিস্তারিত সাফল্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন।

‘জনগণের সরকারের প্রতি বিশ্বদরবারের সম্মান’

মাহদী আমিন বলেন, “আমরা অভিভূত হয়েছি যেভাবে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে সম্মান ও ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে, লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল গৌরবের বিষয়। ক্ষমতার উৎস যখন জনগণ হয়, তখন বিশ্বদরবারে কীভাবে সেই সম্মান ও আত্মমর্যাদা ফুটে ওঠে, আমরা এবার সেটিই দেখেছি।”

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই চীনের প্রেসিডেন্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং আগামীতে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিন পর্বের সফল সফর ও দ্বিপক্ষীয় অর্জন

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরের তিনটি পর্ব ছিল বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন:

  • মালয়েশিয়া পর্ব: সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা।
  • দালিয়ান (চীন) পর্ব: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ও সিইওসহ বিশ্ববরেণ্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময়।
  • বেইজিং পর্ব: চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক।

তিনি জানান, উভয় দেশেই বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি’ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও মিডিয়া) নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, ফিজিবিলিটি স্তরে ‘ইকোনমিক করিডোর’

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবং চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আশার কথা শোনান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

  • শ্রমবাজার অগ্রাধিকার: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতিমালার প্রক্রিয়া শেষ করে বিদেশি কর্মীদের জন্য বাজার উন্মুক্ত করা হলে বাংলাদেশকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।”
  • অর্থনৈতিক করিডোর: চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাবনা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “আমরা চাই বাণিজ্যের প্রসার হোক, দেশে শিল্পায়ন বাড়ুক। এই করিডোর আপাতত পরিকল্পনা ও ফিজিবিলিটি অ্যানালাইসিস (সম্ভাব্যতা যাচাই) স্তরে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নির্দিষ্ট একটি দেশ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যের বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে।”

সামনের দিনগুলোতে এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৪৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
৪৯ Time View

চীন-মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঐকমত্য: ‘নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে বিশ্ব যে সম্মান দিয়েছে তা দেশের জন্য গৌরবের

Update Time : ০৯:৪৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের অত্যন্ত সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিস্তারিত সাফল্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন।

‘জনগণের সরকারের প্রতি বিশ্বদরবারের সম্মান’

মাহদী আমিন বলেন, “আমরা অভিভূত হয়েছি যেভাবে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে সম্মান ও ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে, লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল গৌরবের বিষয়। ক্ষমতার উৎস যখন জনগণ হয়, তখন বিশ্বদরবারে কীভাবে সেই সম্মান ও আত্মমর্যাদা ফুটে ওঠে, আমরা এবার সেটিই দেখেছি।”

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই চীনের প্রেসিডেন্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং আগামীতে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিন পর্বের সফল সফর ও দ্বিপক্ষীয় অর্জন

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরের তিনটি পর্ব ছিল বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন:

  • মালয়েশিয়া পর্ব: সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা।
  • দালিয়ান (চীন) পর্ব: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ও সিইওসহ বিশ্ববরেণ্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময়।
  • বেইজিং পর্ব: চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক।

তিনি জানান, উভয় দেশেই বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি’ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও মিডিয়া) নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, ফিজিবিলিটি স্তরে ‘ইকোনমিক করিডোর’

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবং চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আশার কথা শোনান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

  • শ্রমবাজার অগ্রাধিকার: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতিমালার প্রক্রিয়া শেষ করে বিদেশি কর্মীদের জন্য বাজার উন্মুক্ত করা হলে বাংলাদেশকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।”
  • অর্থনৈতিক করিডোর: চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাবনা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “আমরা চাই বাণিজ্যের প্রসার হোক, দেশে শিল্পায়ন বাড়ুক। এই করিডোর আপাতত পরিকল্পনা ও ফিজিবিলিটি অ্যানালাইসিস (সম্ভাব্যতা যাচাই) স্তরে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নির্দিষ্ট একটি দেশ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যের বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে।”

সামনের দিনগুলোতে এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।