০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় সংসদ

সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে নিজের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া ছিল না, বরং দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশ প্রথম

সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও বিদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

“বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে—‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশ প্রথম। আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

সফরের অর্জনকে দেশবাসীর অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আরও বলেন, “এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নেই। যদি ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি এ দেশের মানুষের অর্জন।”

বিরোধী দল ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

সফরের সাফল্য কামনায় অনুপ্রেরণা জোগানোয় সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেহেতু সংসদের সব সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাও দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন, সেজন্য আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ আখ্যা দিয়ে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

  • স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।
  • বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান: ধন্যবাদ প্রস্তাব সমর্থন করে তিনি বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সবসময় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে বিদেশের সঙ্গে যেকোনো ধরনের মৌলিক বা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সরাসরি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

একনজরে সফরের চুক্তি ও অর্জন

নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। পরদিন মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি সরাসরি চীন সফরে যান। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

এই মেগা সফরে দুটি দেশের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়:

  • চীন: ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU)।
  • মালয়েশিয়া: ১টি সমঝোতা স্মারক ও ২টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:২৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
৩৮ Time View

বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৭:২৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় সংসদ

সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে নিজের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া ছিল না, বরং দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশ প্রথম

সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও বিদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

“বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে—‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশ প্রথম। আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

সফরের অর্জনকে দেশবাসীর অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আরও বলেন, “এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নেই। যদি ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি এ দেশের মানুষের অর্জন।”

বিরোধী দল ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

সফরের সাফল্য কামনায় অনুপ্রেরণা জোগানোয় সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেহেতু সংসদের সব সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাও দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন, সেজন্য আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ আখ্যা দিয়ে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

  • স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।
  • বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান: ধন্যবাদ প্রস্তাব সমর্থন করে তিনি বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সবসময় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে বিদেশের সঙ্গে যেকোনো ধরনের মৌলিক বা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সরাসরি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

একনজরে সফরের চুক্তি ও অর্জন

নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। পরদিন মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি সরাসরি চীন সফরে যান। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

এই মেগা সফরে দুটি দেশের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়:

  • চীন: ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU)।
  • মালয়েশিয়া: ১টি সমঝোতা স্মারক ও ২টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময়।