০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপর্যস্ত কক্সবাজার: প্রস্তুত ৬৪৮ আশ্রয়কেন্দ্র, পানিবন্দি ৫ লাখ মানুষ

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আঞ্চলিক

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। জেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ, বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব নৌপথ। পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে গত ৪ দিনে নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাসহ ২৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

একনজরে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি:

বিষয়বর্তমান পরিস্থিতি ও তথ্য
প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্র৬৪৮টি
জরুরি কন্ট্রোল রুমের নম্বর০১৮৭২৬১৫১৩২ (সার্বক্ষণিক)
আবহাওয়ার সতর্কসংকেতসমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ৪৮ ঘণ্টায় ২২৩ মিলিমিটার (বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত)
পানিবন্দি মানুষপ্রায় ৫ লাখ (১০টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়)
হতাহতের সংখ্যাগত ৪ দিনে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জরুরি ব্যবস্থা

পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা ও বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

পাহাড়ধস ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস

ভারী বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার চকরিয়ায় পাহাড়ধসে নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এক নারী আহত হয়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি সম্পূর্ণ পানিসিক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় নতুন করে আরও বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পানিবন্দি লাখো মানুষ

সাগর উত্তাল থাকায় টানা ৭ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী ও পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

  • ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা: কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত।
  • শহরের চিত্র: কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, বাজারঘাটা, তারাবনিয়াছড়া ও বাস টার্মিনাল এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে।
  • রোহিঙ্গা শিবির: বিশ্বের বৃহত্তম এই আশ্রয়শিবিরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বর্ষণে সেখানে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্থানে মাছের ঘেরে পানি আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আশ্বস্ত করে বলেছেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত শুকনো খাবারের চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ঢেউটিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” পরিস্থিতির অবনতি হলে সব উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
৪৭ Time View

বিপর্যস্ত কক্সবাজার: প্রস্তুত ৬৪৮ আশ্রয়কেন্দ্র, পানিবন্দি ৫ লাখ মানুষ

Update Time : ১১:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আঞ্চলিক

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। জেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ, বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব নৌপথ। পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে গত ৪ দিনে নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাসহ ২৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

একনজরে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি:

বিষয়বর্তমান পরিস্থিতি ও তথ্য
প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্র৬৪৮টি
জরুরি কন্ট্রোল রুমের নম্বর০১৮৭২৬১৫১৩২ (সার্বক্ষণিক)
আবহাওয়ার সতর্কসংকেতসমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ৪৮ ঘণ্টায় ২২৩ মিলিমিটার (বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত)
পানিবন্দি মানুষপ্রায় ৫ লাখ (১০টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়)
হতাহতের সংখ্যাগত ৪ দিনে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জরুরি ব্যবস্থা

পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা ও বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

পাহাড়ধস ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস

ভারী বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার চকরিয়ায় পাহাড়ধসে নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এক নারী আহত হয়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি সম্পূর্ণ পানিসিক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় নতুন করে আরও বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পানিবন্দি লাখো মানুষ

সাগর উত্তাল থাকায় টানা ৭ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী ও পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

  • ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা: কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত।
  • শহরের চিত্র: কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, বাজারঘাটা, তারাবনিয়াছড়া ও বাস টার্মিনাল এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে।
  • রোহিঙ্গা শিবির: বিশ্বের বৃহত্তম এই আশ্রয়শিবিরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বর্ষণে সেখানে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্থানে মাছের ঘেরে পানি আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আশ্বস্ত করে বলেছেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত শুকনো খাবারের চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ঢেউটিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” পরিস্থিতির অবনতি হলে সব উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।