০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, মাঠে বসে খেলেন খাবার

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

বরিশালের বাবুগঞ্জে বিস্তীর্ণ জঙ্গলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় তিনি এই প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান এবং পায়ে হেঁটে দুর্গম জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
মূল ঘটনাবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন
প্রধান অতিথিপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্থানপূর্ব রহমতপুর, বাবুগঞ্জ উপজেলা, বরিশাল
সময়সোমবার (১৩ জুলাই), বেলা সাড়ে ১১টা
বিশেষ আকর্ষণঅ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং মাঠে বসে সেনাসদস্যদের সাথে খাবার গ্রহণ
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গসেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ

দুর্গম জঙ্গলে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম পর্যবেক্ষণ

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেম’-এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

সেনাসদস্যদের সাথে আন্তরিক সময় ও খাবার গ্রহণ

পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মিশে যান। জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাঁকে পরিবেশন করা হয়।

‘সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, এখানে এলে শৈশবে ফিরে যাই’

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
৫৩ Time View

বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, মাঠে বসে খেলেন খাবার

Update Time : ০৪:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

বরিশালের বাবুগঞ্জে বিস্তীর্ণ জঙ্গলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় তিনি এই প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান এবং পায়ে হেঁটে দুর্গম জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
মূল ঘটনাবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন
প্রধান অতিথিপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্থানপূর্ব রহমতপুর, বাবুগঞ্জ উপজেলা, বরিশাল
সময়সোমবার (১৩ জুলাই), বেলা সাড়ে ১১টা
বিশেষ আকর্ষণঅ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং মাঠে বসে সেনাসদস্যদের সাথে খাবার গ্রহণ
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গসেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ

দুর্গম জঙ্গলে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম পর্যবেক্ষণ

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেম’-এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

সেনাসদস্যদের সাথে আন্তরিক সময় ও খাবার গ্রহণ

পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মিশে যান। জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাঁকে পরিবেশন করা হয়।

‘সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, এখানে এলে শৈশবে ফিরে যাই’

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।