সংসদের ছাদে চুইয়ে পড়ে পানি, নিজ ঘরে বাটি রাখার গল্প শোনালেন ডেপুটি স্পিকার
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়
টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খোদ জাতীয় সংসদ ভবনের পবিত্র মসজিদ ও বিভিন্ন কক্ষের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সংসদে বিষয়টি উত্থাপিত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। এ সময় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজের ঘরের করুণ চিত্র তুলে ধরে জানান, বৃষ্টির দিনে তাঁর নিজের ঘরের ছাদেও বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখতে হয়!
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নজরে আনলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
একনজরে সংসদ ভবনে পানি পড়ার ঘটনার সারসংক্ষেপ:
| বিবরণ | তথ্য |
| ঘটনার স্থান | জাতীয় সংসদ ভবন (বিশেষ করে মসজিদ এলাকা) |
| মূল সমস্যা | ছাদ ফেটে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ |
| বিষয়টি উত্থাপনকারী | সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ |
| সভাপতির দায়িত্বে | ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় | গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় |
| গৃহীত পদক্ষেপ | মেরামত কাজ শুরু, এক সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস |
মসজিদের করুণ দশা ও হুইপের ক্ষোভ
সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হুইপ জি কে গউছ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এই মহান সংসদে নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। অথচ যে ফোরামে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন করছেন, ঠিক তার ওপরের তলাতেই থাকা মসজিদে ছাদ ফেটে অনবরত পানি পড়ছে এবং সেখানে বালতি দিয়ে পানি আটকাতে হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যেখানে এই অধিবেশনে আমরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছি, সেখানে মসজিদের এই করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি অবিলম্বে ছাদ দিয়ে পানি পড়া বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
ডেপুটি স্পিকারের রসিকতা ও অসহায়ত্ব
হুইপ জি কে গউছের বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন। তবে তিনি স্বভাবসুলভ রসিকতার ছলে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৃষ্টির দিনে তিনি যখন নিজের ঘরে ঘুমাতে যান, তখন তাঁর ঘরের ছাদ থেকেও পানি পড়ে এবং মেঝেতে বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখার ব্যবস্থা করতে হয়। নিজের ঘরের এমন করুণ দশার কথা জানিয়ে তিনি পুরো সংসদ কক্ষে এক হালকা ও হাস্যরসাত্মক পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
স্থায়ী সমাধানে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ
এরপরই সংসদ কার্য পরিচালনাকারী চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনে পানি পড়ার বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার পেছনে বসে থাকা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি যদি এই বিষয়ে কিছু বলতেন, তবে সবাই আশ্বস্ত হতে পারতেন এবং বৃষ্টির দিনে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন। জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করেন যে, ভবনের ছাদ সংস্কারে সর্বাত্মক বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এর স্থায়ী প্রতিকার হয়ে যাবে।





















