০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রথযাত্রা মহোৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিভাজনের অপচেষ্টা করা হলেও, বর্তমান সরকার সেই বিভাজনের পথে বিশ্বাস করে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একনজরে রথযাত্রা মহোৎসব ও মন্ত্রীর বার্তার সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানশ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ২০২৬
স্থানস্বামীবাগ আশ্রম, ঢাকা
প্রধান অতিথিমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী)
মূল বার্তাবিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখা
বিশেষ অতিথিবিজন কান্তি সরকার (প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী) ও এ বি এম আব্দুস সাত্তার (প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব)

‘বাংলাদেশ সব ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ’

রথযাত্রার এই পুণ্যলগ্নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের রাষ্ট্র নয়; এটি সব ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ। সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।” জনগণের সমর্থনে গঠিত সরকার দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের রূপকল্প

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুসৃত পথ ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অপশক্তি প্রতিরোধের আহ্বান

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের এই হাজার বছরের সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে একটি অপশক্তি বারবার চেষ্টা করছে।” এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পুণ্যার্থীরা মহোৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
১৭৯ Time View

রথযাত্রা মহোৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

Update Time : ০৮:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিভাজনের অপচেষ্টা করা হলেও, বর্তমান সরকার সেই বিভাজনের পথে বিশ্বাস করে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একনজরে রথযাত্রা মহোৎসব ও মন্ত্রীর বার্তার সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানশ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ২০২৬
স্থানস্বামীবাগ আশ্রম, ঢাকা
প্রধান অতিথিমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী)
মূল বার্তাবিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখা
বিশেষ অতিথিবিজন কান্তি সরকার (প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী) ও এ বি এম আব্দুস সাত্তার (প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব)

‘বাংলাদেশ সব ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ’

রথযাত্রার এই পুণ্যলগ্নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের রাষ্ট্র নয়; এটি সব ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ। সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।” জনগণের সমর্থনে গঠিত সরকার দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের রূপকল্প

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুসৃত পথ ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অপশক্তি প্রতিরোধের আহ্বান

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের এই হাজার বছরের সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে একটি অপশক্তি বারবার চেষ্টা করছে।” এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পুণ্যার্থীরা মহোৎসবে অংশগ্রহণ করেন।