আগামী মাসেই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করছে সরকার: মিলবে যেসব বিশেষ সুবিধা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | প্রবাস ও অর্থনীতি
প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একনজরে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রকল্পের রূপরেখা:
| বিবরণ | তথ্য |
| উদ্যোগের নাম | প্রবাসী কার্ড (প্রথম পর্যায়ে ডেবিট কার্ড) |
| উদ্বোধনের সময় | আগামী মাসের মাঝামাঝি (পরীক্ষামূলক) |
| প্রথম পর্যায়ের সহযোগী | জনতা ব্যাংক |
| দ্বিতীয় পর্যায়ের সহযোগী | প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক |
| বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা | ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার; জুন ২০২৭-এর মধ্যে ২ লাখ |
| মূল লক্ষ্য | ডুয়েল কারেন্সি পেমেন্ট, আর্থিক প্রণোদনা ও ভিআইপি সেবা প্রদান |
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নতুন ধাপ
বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসীদের জন্য এই কার্ড চালু হতে যাচ্ছে। উপ-প্রেস সচিব জানান, ডুয়েল কারেন্সি সুবিধাযুক্ত এই কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।
প্রবাসী কার্ডের আকর্ষণীয় সুবিধাসমূহ
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে নানা ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করবেন। উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিমানবন্দর সেবা: দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে দ্রুত সেবা, মিট অ্যান্ড গ্রিট এবং সিগনেচার কার্ডে পিক অ্যান্ড ড্রপ সুবিধা।
- ডিসকাউন্ট ও বুকিং: বিমানের টিকিট, হোটেল বুকিং এবং দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
- চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে ডিসকাউন্ট, মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসন ও বিমা সুবিধা।
- বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক কাজ: জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।
- আর্থিক ও কনস্যুলার সেবা: রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা, এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার।
আগামীর লক্ষ্য ও দক্ষতা উন্নয়ন
বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্বে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যেন এই কার্ডের আওতাভুক্ত হন, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করার ওপরও তিনি জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





















