প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ: শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও আইএলও-এর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একনজরে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকের সারসংক্ষেপ:
| বিবরণ | তথ্য |
| সাক্ষাৎকারী | গিলবার্ট এফ. হোংবো (মহাপরিচালক, আইএলও) |
| বৈঠকের স্থান | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় |
| আলোচনার মূল বিষয় | শ্রম অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি |
| বাংলাদেশের অগ্রাধিকার | আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়ন ও শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ |
| আইএলও-এর অবস্থান | শ্রম খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় |
গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা
বৈঠকের শুরুতে গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন:
“জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।”
এছাড়া, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেন আইএলও মহাপরিচালক। স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্যের জন্যও তিনি বর্তমান সরকারের প্রশংসা করেন।
শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলও-এর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।”
বৈশ্বিক শ্রমবাজার, তৈরি পোশাক খাত ও অভিবাসী কল্যাণ
বৈঠকে শ্রম খাতের নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়:
- শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ।
- বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
- তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন।
- অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তরের মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।





















