পাত্তা পাচ্ছে না মোদির বিশেষ ঘোষণা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় ‘তেলাপোকা পার্টি’
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের ঘোষণা দিলেও তাতে কোনো পাত্তা দিচ্ছেন না বিক্ষোভকারীরা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একচুলও ছাড় না দিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি’।
তাদের এই তীব্র আন্দোলনে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ যোগ দিয়েছে আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
একনজরে দিল্লির চলমান বিক্ষোভ ও সার্বিক পরিস্থিতি:
| বিবরণ | তথ্য |
| মূল ইস্যু | মেডিকেল প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি |
| আন্দোলনকারী সংগঠন | ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল |
| প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা | বিচার নিশ্চিতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন |
| আন্দোলনকারীদের অবস্থান | মোদির ঘোষণা প্রত্যাখ্যান; শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় |
| সংঘর্ষের চিত্র | পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, ৬ পুলিশ আহত |
| রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া | শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দায়ে মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান |
মোদির ঘোষণা ও সিজেপি নেতার কটাক্ষ
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে মোদির এই আশ্বাসের পরও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেনি। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে মোদি পুরো দিল্লিই বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।”
‘আন্দোলন ভণ্ডুল করতে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে বিজেপি’
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বাইরে থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন:
“ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বাইরে থেকে লোক আনা হচ্ছে। আমরা এক মাস ধরে এখানে অবস্থান করছি। এই এক মাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আন্দোলন বড় হওয়ার পর এখন ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিতে বাইরে থেকে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে বিজেপি।”
যন্তর মন্তরে মধ্যরাতে রণক্ষেত্র ও পুলিশের লাঠিচার্জ
এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতের পরও যন্তর মন্তর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের হামলায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর নির্মমভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
মোদিকে তুলোধুনো করলেন রাহুল গান্ধী
মোদির বিশেষ ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন মোদিই।
মোদিকে উদ্দেশ করে রাহুল লেখেন, “আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি আপনিই নষ্ট করেছেন। আপনি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে দখল ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন এবং এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন।” এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছে মোদিকে ক্ষমা চাইতেও বলেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।





















