০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার

ভারতের মুম্বাইয়ে বাজার করতে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে পুলিশ আটক করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, ওই নারী জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিক এবং তার ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি-প্রমাণ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তার স্বামী জুম্মান ফকির। তাদের পৈত্রিক বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। তবে কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে তারা ভারতের নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।

একনজরে

বিষয়তথ্য
ভুক্তভোগীসাইদা ফকির
স্বামীজুম্মান ফকির
পৈত্রিক বাড়িস্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ
বর্তমানে কোথায়সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ
মুম্বাইয়ে বসবাসপ্রায় ২০ বছর
সন্তান১২ বছরের ছেলে
মূল অভিযোগভারতীয় নাগরিক হয়েও বাংলাদেশে পুশ-ইন

বাজারে যাওয়ার পথে আটক

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় মুম্বাই পুলিশ সাইদাকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।

খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মহারাষ্ট্রের চেম্বুর থানায় যান। সেখানে তারা সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে তুলে দেন।

পরিবারের দাবি, এসব নথি যাচাই করে দেখার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

তিন দিন পর বাংলাদেশে পাঠানোর খবর

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের তিন দিন পর জুম্মানকে জানানো হয়, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশে পৌঁছে স্বামীকে ফোন করে নিজের দুরবস্থার কথা জানান সাইদা।

সাতক্ষীরায় কাদা ও চাষের জমি পেরিয়ে হাঁটেন

সাইদার স্বামী জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর তার স্ত্রী চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটেন।

পরে একটি প্রধান সড়কে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন তাকে দেখতে পান। এরপর একটি স্থানীয় পরিবার তাকে আশ্রয় দেয় এবং পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা করে।

বর্তমানে সাইদা সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন বলে জানান তার স্বামী।

১২ বছরের ছেলের কাছে ফিরতে চান সাইদা

জুম্মান জানান, তার স্ত্রী ভারতে ফিরে যেতে চান। বিশেষ করে ১২ বছরের ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে আছেন।

তিনি দাবি করেন, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয় এবং পরে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়।

কলকাতা হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ

সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে তার পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)ও কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৬ Time View

ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন

Update Time : ০৮:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার

ভারতের মুম্বাইয়ে বাজার করতে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে পুলিশ আটক করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, ওই নারী জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিক এবং তার ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি-প্রমাণ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তার স্বামী জুম্মান ফকির। তাদের পৈত্রিক বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। তবে কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে তারা ভারতের নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।

একনজরে

বিষয়তথ্য
ভুক্তভোগীসাইদা ফকির
স্বামীজুম্মান ফকির
পৈত্রিক বাড়িস্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ
বর্তমানে কোথায়সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ
মুম্বাইয়ে বসবাসপ্রায় ২০ বছর
সন্তান১২ বছরের ছেলে
মূল অভিযোগভারতীয় নাগরিক হয়েও বাংলাদেশে পুশ-ইন

বাজারে যাওয়ার পথে আটক

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় মুম্বাই পুলিশ সাইদাকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।

খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মহারাষ্ট্রের চেম্বুর থানায় যান। সেখানে তারা সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে তুলে দেন।

পরিবারের দাবি, এসব নথি যাচাই করে দেখার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

তিন দিন পর বাংলাদেশে পাঠানোর খবর

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের তিন দিন পর জুম্মানকে জানানো হয়, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশে পৌঁছে স্বামীকে ফোন করে নিজের দুরবস্থার কথা জানান সাইদা।

সাতক্ষীরায় কাদা ও চাষের জমি পেরিয়ে হাঁটেন

সাইদার স্বামী জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর তার স্ত্রী চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটেন।

পরে একটি প্রধান সড়কে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন তাকে দেখতে পান। এরপর একটি স্থানীয় পরিবার তাকে আশ্রয় দেয় এবং পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা করে।

বর্তমানে সাইদা সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন বলে জানান তার স্বামী।

১২ বছরের ছেলের কাছে ফিরতে চান সাইদা

জুম্মান জানান, তার স্ত্রী ভারতে ফিরে যেতে চান। বিশেষ করে ১২ বছরের ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে আছেন।

তিনি দাবি করেন, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয় এবং পরে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়।

কলকাতা হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ

সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে তার পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)ও কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।