০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা: সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী রাশেদুল হাসান রঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল আই ডেস্ক

সিরাজগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ চার দশকের পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথে সক্রিয় ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন রাশেদুল হাসান রঞ্জন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবরণ, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতা এবার আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

একনজরে রাশেদুল হাসান রঞ্জনের রাজনৈতিক পরিচিতি:

বিবরণতথ্য
নেতার নামরাশেদুল হাসান রঞ্জন
বর্তমান দায়িত্বযুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি
প্রত্যাশিত পদসাধারণ সম্পাদক (আসন্ন কাউন্সিলে)
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাপ্রায় চার দশক
মামলা ও কারাবরণদুই শতাধিক রাজনৈতিক মামলা এবং ২১ বারের বেশি কারাবরণ

শৈশবেই রাজনীতির হাতেখড়ি

রাশেদুল হাসান রঞ্জনের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে শৈশবেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পরিচালিত হড়াসাগর খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে আশির দশকের শুরুতে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন রঞ্জন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সিরাজগঞ্জ সফরের সময় ধানের শীষ হাতে মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

মামলা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক ত্যাগ

Bengal Eye News-কে দেওয়া বক্তব্যে রঞ্জন দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা প্রায় দুই শতাধিক মামলার কোনোটিই ব্যক্তিগত কারণে হয়নি; সবই রাজনৈতিক। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে তাঁকে অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও দীর্ঘ সময় আত্মগোপনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রথম মেয়াদেই তিনি প্রায় তিন বছর কারাগারে ছিলেন এবং ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে আরও ২১ বার কারাবরণ করেন। তিনি জোর দিয়ে জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই কমিটি বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও পারিবারিক হয়রানি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে অবস্থান করেছেন বলে জানান রঞ্জন। রাজনৈতিক কারণে তাঁর পরিবারকেও চরম মূল্য চোকাতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘ ১৫ বছর সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় চাকরি করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরি হারান। এছাড়া তাঁদের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ও আগামী দিনের লক্ষ্য

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে পুঁজি করে আগামী কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রঞ্জন। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে চান। তৃণমূলকে মূল্যায়ন এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি দলের হাইকমান্ডসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১২:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১৬৩ Time View

চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা: সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী রাশেদুল হাসান রঞ্জন

Update Time : ১২:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল আই ডেস্ক

সিরাজগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ চার দশকের পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথে সক্রিয় ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন রাশেদুল হাসান রঞ্জন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবরণ, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতা এবার আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

একনজরে রাশেদুল হাসান রঞ্জনের রাজনৈতিক পরিচিতি:

বিবরণতথ্য
নেতার নামরাশেদুল হাসান রঞ্জন
বর্তমান দায়িত্বযুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি
প্রত্যাশিত পদসাধারণ সম্পাদক (আসন্ন কাউন্সিলে)
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাপ্রায় চার দশক
মামলা ও কারাবরণদুই শতাধিক রাজনৈতিক মামলা এবং ২১ বারের বেশি কারাবরণ

শৈশবেই রাজনীতির হাতেখড়ি

রাশেদুল হাসান রঞ্জনের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে শৈশবেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পরিচালিত হড়াসাগর খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে আশির দশকের শুরুতে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন রঞ্জন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সিরাজগঞ্জ সফরের সময় ধানের শীষ হাতে মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

মামলা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক ত্যাগ

Bengal Eye News-কে দেওয়া বক্তব্যে রঞ্জন দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা প্রায় দুই শতাধিক মামলার কোনোটিই ব্যক্তিগত কারণে হয়নি; সবই রাজনৈতিক। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে তাঁকে অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও দীর্ঘ সময় আত্মগোপনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রথম মেয়াদেই তিনি প্রায় তিন বছর কারাগারে ছিলেন এবং ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে আরও ২১ বার কারাবরণ করেন। তিনি জোর দিয়ে জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই কমিটি বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও পারিবারিক হয়রানি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে অবস্থান করেছেন বলে জানান রঞ্জন। রাজনৈতিক কারণে তাঁর পরিবারকেও চরম মূল্য চোকাতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘ ১৫ বছর সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় চাকরি করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরি হারান। এছাড়া তাঁদের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ও আগামী দিনের লক্ষ্য

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে পুঁজি করে আগামী কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রঞ্জন। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে চান। তৃণমূলকে মূল্যায়ন এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি দলের হাইকমান্ডসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।