সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় বিরোধীদল: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
নীলফামারী প্রতিনিধি | বেঙ্গল আই ডেস্ক | সারাদেশ
বিরোধীদল কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে গাওছিয়া কমিটির আয়োজনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি সার ব্যবস্থাপনা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, ফ্যামিলি কার্ড এবং ভারতের কাছে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
একনজরে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
| মূল বক্তা | ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী) |
| স্থান ও সময় | চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী (২৬ আগস্ট, বিকেল ৪টা) |
| অনুষ্ঠান | পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা |
| প্রধান আলোচ্য বিষয় | সারের ডিলার নিয়োগ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পানির হিস্যা ও ফ্যামিলি কার্ড |
| বিশেষ অতিথি | শায়লা সাঈদ তন্বী (ইউএনও), মো. হাবিবুল্লাহ (ওসি) প্রমুখ |
সারের সরবরাহ ও ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গ
সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া সারের ডিলারদের আমরা বাতিল করিনি। তবে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের জন্য আমরা পরিপত্র জারি করেছি। প্রতি ইউনিয়নে ইউএনও-র মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণ সহজেই সার পায়।” কেউ যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এলাকার মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষি ও মৎস্য চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ১০টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন। পাঁচটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের (ক্রাইটেরিয়া) মধ্যে প্রথম তিনটিতে যারা পড়বেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। আমাদের অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। একসময় ২০-২৫ ফুট খুঁড়লে পানি পাওয়া গেলেও এখন ২০০ ফুট, এমনকি বরেন্দ্র অঞ্চলে ৬০০-৭০০ ফুট নিচেও পানি মিলছে না।”
পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে ভারতকে আহ্বান
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি অভিন্ন নদীর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, “ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, যদি আমাদের বন্ধু মনে করেন, তবে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। তাহলে আমরা মনে করব, আপনারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তরিক।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ, ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেয়াজুল ইসলাম কালু, মুফতি শাহ মোহাম্মদ ইমরান এবং ক্বারি মোহাম্মদ আলামিন ইসলাম আছ ছাদেকী।





















