০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার ৩ বস্তির আধুনিকায়নে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে চীন

বেঙ্গল আই ডেস্ক | রাজধানী

রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বিনিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে চীন। একসঙ্গে পুরো অর্থ বিনিয়োগ সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এই বিনিয়োগ করবে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই সম্মতি দেন। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান।

একনজরে বস্তি আধুনিকায়ন প্রকল্পের তথ্য:

বিবরণতথ্য
প্রকল্পের স্থানকড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি (ঢাকা-১৭ আসন)
বিনিয়োগকারী দেশচীন
প্রস্তাবিত বাজেটপ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা
ভবনের ধরন২০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন
ফ্ল্যাটের আয়তন৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুট
ভাড়া ও খরচমাসিক ভাড়া ফ্রি, তবে বিদ্যুৎ-পানির বিল বাসিন্দাদের দিতে হবে

চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর মাধ্যমে চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে তারা প্রস্তাবটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিনিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন:

“তারা বলেছে, পুরোটা যদি একসঙ্গে আমরা নাও পারি, আমরা প্রায়োরিটি বেসিসে পর্যায়ক্রমে এখানে ইনভেস্ট করব।”

কেমন হবে বস্তিবাসীর নতুন আবাসন?

প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বস্তিবাসীদের জন্য ২০ তলা ভবনে ছোট ছোট আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুট। এসব বাসায় বর্তমান বস্তিবাসীদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে।

এই আবাসনে বসবাসকারীদের কাছ থেকে কোনো মাসিক ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ তাদের নিজেদের বহন করতে হবে।

তালিকা তৈরির কাজ শুরু

বস্তিগুলোতে বর্তমানে বসবাসরত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিশ্চিত করেছেন যে, তালিকাভুক্ত কেউ বঞ্চিত হবেন না এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে আধুনিক এই আবাসনের আওতায় আনা হবে।

আবাসন ছাড়াও বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০২:১৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
৭৫ Time View

ঢাকার ৩ বস্তির আধুনিকায়নে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে চীন

Update Time : ০২:১৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | রাজধানী

রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বিনিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে চীন। একসঙ্গে পুরো অর্থ বিনিয়োগ সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এই বিনিয়োগ করবে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই সম্মতি দেন। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান।

একনজরে বস্তি আধুনিকায়ন প্রকল্পের তথ্য:

বিবরণতথ্য
প্রকল্পের স্থানকড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি (ঢাকা-১৭ আসন)
বিনিয়োগকারী দেশচীন
প্রস্তাবিত বাজেটপ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা
ভবনের ধরন২০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন
ফ্ল্যাটের আয়তন৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুট
ভাড়া ও খরচমাসিক ভাড়া ফ্রি, তবে বিদ্যুৎ-পানির বিল বাসিন্দাদের দিতে হবে

চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর মাধ্যমে চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে তারা প্রস্তাবটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিনিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন:

“তারা বলেছে, পুরোটা যদি একসঙ্গে আমরা নাও পারি, আমরা প্রায়োরিটি বেসিসে পর্যায়ক্রমে এখানে ইনভেস্ট করব।”

কেমন হবে বস্তিবাসীর নতুন আবাসন?

প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বস্তিবাসীদের জন্য ২০ তলা ভবনে ছোট ছোট আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুট। এসব বাসায় বর্তমান বস্তিবাসীদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে।

এই আবাসনে বসবাসকারীদের কাছ থেকে কোনো মাসিক ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ তাদের নিজেদের বহন করতে হবে।

তালিকা তৈরির কাজ শুরু

বস্তিগুলোতে বর্তমানে বসবাসরত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিশ্চিত করেছেন যে, তালিকাভুক্ত কেউ বঞ্চিত হবেন না এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে আধুনিক এই আবাসনের আওতায় আনা হবে।

আবাসন ছাড়াও বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।