কসঙ্গে ২৫০ গুমের বিচার: আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দাখিল হচ্ছে অভিযোগ, সাক্ষ্যে মিলছে লোমহর্ষক বর্ণনা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হয়ে এখনো সন্ধান মেলেনি এমন ২৫০ জনের ঘটনা একসঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ এসব গুমের ঘটনায় একই ধরনের প্যাটার্ন পাওয়ায় এগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত’ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আজ (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে এই বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
একনজরে গুম কমিশনের পরিসংখ্যান ও ট্রাইব্যুনালের তথ্য:
| বিবরণ | তথ্য/পরিসংখ্যান |
| গুম কমিশনে মোট অভিযোগ | ১,৯১৩টি |
| যাচাইকৃত প্রকৃত গুমের ঘটনা | ১,৫৬৯টি |
| ফিরে এসেছেন | ১,২৮২ জন |
| এখনো নিখোঁজ | ২৫১ জন |
| লাশ উদ্ধার হয়েছে | ৩৬ জনের |
| ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে বিচার | ২৫০ জনের (সেপ্টেম্বরে অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা) |
একক বিচারে ২৫০ গুমের ঘটনা
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, ২৫০ ব্যক্তির ঘটনা একক বিচারে আনার চেষ্টা করা হলেও প্রত্যেকের ঘটনায় আলাদা কাউন্ট ও অভিযোগ থাকবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিলের চেষ্টা চলছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুমের তথ্যপ্রমাণ পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হয়েছে, তাই তদন্তে কিছুটা সময় লাগছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের আবারও শুনানি নেওয়া হবে।
সাক্ষীদের বর্ণনায় গোপন বন্দিশালার ভয়াবহতা
গুম-নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান তিনটি মামলার বিচার শেষের পথে। ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) ও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসছে। নূরে আলম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তাঁকে রাখা সেলটি এতই ছোট ছিল যে শুয়ে পড়লে পা শৌচাগার পর্যন্ত চলে যেত। ইলিয়াস আলীকে গুমের আগে মাইক্রোবাসে অপেক্ষার তথ্য দিয়েছেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। এসব মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২০০-এর বেশি গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের তদন্ত
গুমের পর যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের ঘটনাও আলাদাভাবে তদন্ত করছে প্রসিকিউশন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভারতীয় আদালতের নথি থেকে তাঁকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে এবং এ মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মায়ের ডাকের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে ওঠার দাবি
গুমের শিকার পরিবারগুলো তদন্তের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর তিন মাসে তাঁরা কোনো তদন্তের অগ্রগতি দেখেননি। তাঁরা রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে এসে এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার চান।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে গুম বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।





















