০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকতা: এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রতিচ্ছবি

বেঙ্গল আই ডেস্ক | মিডিয়া ও ব্যক্তিত্ব

জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকতা কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, দীর্ঘ পাঁচ দশকের কর্মজীবনে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘গ্রীনওয়াচ ঢাকা’র সম্পাদক ও প্রকাশক। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যদের চরিতাবিধানের জন্য তিনি তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পেশাদার জীবনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন, যা দেশের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ এমএ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রিধারী এই প্রখ্যাত সাংবাদিক ১৯৭৪ সালের ১৫ নভেম্বর ‘দ্য বাংলাদেশ টাইমস’-এর মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন।

একনজরে দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক:

বিবরণতথ্য
সাংবাদিকতা শুরু১৫ নভেম্বর ১৯৭৪ (দ্য বাংলাদেশ টাইমস)
বর্তমান কর্মস্থলসম্পাদক ও প্রকাশক, গ্রীনওয়াচ ঢাকা
শিক্ষাগত যোগ্যতারাষ্ট্রবিজ্ঞানে এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এমএ (ঢাবি)
উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাথর্ণী পাথ অব জার্নালিজম (২০২৪), রিভার্স অব লাইফ (২০০৪), গঙ্গার পানি নিয়ে সংঘাত (২০০৫)
গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতিশহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা ২০২৪, খন্দকার আবদুল হামিদ সিএনসি পদক ২০২২, এসকাপ/এফইজেবি আওয়ার্ড ১৯৮৭
বিশেষ অবদানবাংলাদেশে পরিবেশ ও এইসআইভি/এইডস সাংবাদিকতার পথিকৃৎ

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ

বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে বিদেশি বিষাক্ত বর্জ্য আমদানির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সফল মিডিয়া ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৯৯২ সালে তাঁর অনুসন্ধানী রিপোর্টের চাপে বিদেশ থেকে আমদানি করা বর্জ্য-মিশ্রিত জিঙ্ক অক্সি সালফেট সারের বিতরণ বন্ধ করে আমদানিকারককে তা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে লেখা বই ‘সোনালী স্বপ্নের সন্ধানে’-এর ফলশ্রুতিতেই দেশে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশগত সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়।

পাশাপাশি, বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস সাংবাদিকতারও তিনি পথিকৃৎ। ১৯৯৪ সালে সাংবাদিকদের জন্য প্রথম এই বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমন্বয় করেন তিনি। তাঁর তৈরি করা সাংবাদিকদের লেখনীর কারণেই এইডস বিষয়ে মানুষের ভুল ধারণা ও রোগীদের প্রতি মারমুখী আচরণ ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়।

নদী-পানির অধিকার রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

দেশের মানুষের নদী ও পানির অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ব্রিটেনের ২৭ জন সাংবাদিককে নিয়ে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গা-নির্ভরশীল এলাকায় তথ্যানুসন্ধানী ভ্রমণের আয়োজন করেন তিনি। এর মাধ্যমে উপমহাদেশের জনগণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সূচনা হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, বাংলাদেশ-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবনে তিনি লন্ডনের প্যানোস ফিচার সার্ভিস ও সানডে টাইমস, দিল্লীর ডাউন টু আর্থ এবং ম্যানিলাস্থ ডেফট-নিউজ এশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও কাজ করেছেন।

সংবাদপত্র সম্পাদনা ও প্রেস ক্লাব আধুনিকায়ন

দ্য নিউ নেশন, দ্য বাংলাদেশ টুডে এবং দ্য এশিয়ান এজ-এর মতো পত্রিকাগুলোর মানোন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জনে তিনি পরামর্শক সম্পাদক হিসেবে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। এছাড়াও তিনি মর্নিং সান, দ্য ডেইলি স্টার এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর মতো শীর্ষ দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাংবাদিকতার বাইরে ২০০৩ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের লাইব্রেরির আধুনিকায়ন ও কম্পিউটারিকরণে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। দেশে জাতীয়ভাবে ইন্টারনেট চালুর আগেই ১৯৯৪ সালে তিনি প্রেস ক্লাবে ই-মেইল ও ইন্টারনেট চালু করেন, যা দেখতে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভিড় জমাত।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১২:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩২ Time View

জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকতা: এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রতিচ্ছবি

Update Time : ১২:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | মিডিয়া ও ব্যক্তিত্ব

জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকতা কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, দীর্ঘ পাঁচ দশকের কর্মজীবনে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘গ্রীনওয়াচ ঢাকা’র সম্পাদক ও প্রকাশক। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যদের চরিতাবিধানের জন্য তিনি তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পেশাদার জীবনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন, যা দেশের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ এমএ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রিধারী এই প্রখ্যাত সাংবাদিক ১৯৭৪ সালের ১৫ নভেম্বর ‘দ্য বাংলাদেশ টাইমস’-এর মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন।

একনজরে দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক:

বিবরণতথ্য
সাংবাদিকতা শুরু১৫ নভেম্বর ১৯৭৪ (দ্য বাংলাদেশ টাইমস)
বর্তমান কর্মস্থলসম্পাদক ও প্রকাশক, গ্রীনওয়াচ ঢাকা
শিক্ষাগত যোগ্যতারাষ্ট্রবিজ্ঞানে এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এমএ (ঢাবি)
উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাথর্ণী পাথ অব জার্নালিজম (২০২৪), রিভার্স অব লাইফ (২০০৪), গঙ্গার পানি নিয়ে সংঘাত (২০০৫)
গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতিশহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা ২০২৪, খন্দকার আবদুল হামিদ সিএনসি পদক ২০২২, এসকাপ/এফইজেবি আওয়ার্ড ১৯৮৭
বিশেষ অবদানবাংলাদেশে পরিবেশ ও এইসআইভি/এইডস সাংবাদিকতার পথিকৃৎ

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ

বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে বিদেশি বিষাক্ত বর্জ্য আমদানির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সফল মিডিয়া ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৯৯২ সালে তাঁর অনুসন্ধানী রিপোর্টের চাপে বিদেশ থেকে আমদানি করা বর্জ্য-মিশ্রিত জিঙ্ক অক্সি সালফেট সারের বিতরণ বন্ধ করে আমদানিকারককে তা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে লেখা বই ‘সোনালী স্বপ্নের সন্ধানে’-এর ফলশ্রুতিতেই দেশে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশগত সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়।

পাশাপাশি, বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস সাংবাদিকতারও তিনি পথিকৃৎ। ১৯৯৪ সালে সাংবাদিকদের জন্য প্রথম এই বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমন্বয় করেন তিনি। তাঁর তৈরি করা সাংবাদিকদের লেখনীর কারণেই এইডস বিষয়ে মানুষের ভুল ধারণা ও রোগীদের প্রতি মারমুখী আচরণ ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়।

নদী-পানির অধিকার রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

দেশের মানুষের নদী ও পানির অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ব্রিটেনের ২৭ জন সাংবাদিককে নিয়ে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গা-নির্ভরশীল এলাকায় তথ্যানুসন্ধানী ভ্রমণের আয়োজন করেন তিনি। এর মাধ্যমে উপমহাদেশের জনগণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সূচনা হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, বাংলাদেশ-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবনে তিনি লন্ডনের প্যানোস ফিচার সার্ভিস ও সানডে টাইমস, দিল্লীর ডাউন টু আর্থ এবং ম্যানিলাস্থ ডেফট-নিউজ এশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও কাজ করেছেন।

সংবাদপত্র সম্পাদনা ও প্রেস ক্লাব আধুনিকায়ন

দ্য নিউ নেশন, দ্য বাংলাদেশ টুডে এবং দ্য এশিয়ান এজ-এর মতো পত্রিকাগুলোর মানোন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জনে তিনি পরামর্শক সম্পাদক হিসেবে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। এছাড়াও তিনি মর্নিং সান, দ্য ডেইলি স্টার এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর মতো শীর্ষ দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাংবাদিকতার বাইরে ২০০৩ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের লাইব্রেরির আধুনিকায়ন ও কম্পিউটারিকরণে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। দেশে জাতীয়ভাবে ইন্টারনেট চালুর আগেই ১৯৯৪ সালে তিনি প্রেস ক্লাবে ই-মেইল ও ইন্টারনেট চালু করেন, যা দেখতে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভিড় জমাত।