জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকতা: এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রতিচ্ছবি
বেঙ্গল আই ডেস্ক | মিডিয়া ও ব্যক্তিত্ব
জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকতা কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, দীর্ঘ পাঁচ দশকের কর্মজীবনে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘গ্রীনওয়াচ ঢাকা’র সম্পাদক ও প্রকাশক। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যদের চরিতাবিধানের জন্য তিনি তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পেশাদার জীবনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন, যা দেশের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ এমএ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রিধারী এই প্রখ্যাত সাংবাদিক ১৯৭৪ সালের ১৫ নভেম্বর ‘দ্য বাংলাদেশ টাইমস’-এর মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন।
একনজরে দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক:
| বিবরণ | তথ্য |
| সাংবাদিকতা শুরু | ১৫ নভেম্বর ১৯৭৪ (দ্য বাংলাদেশ টাইমস) |
| বর্তমান কর্মস্থল | সম্পাদক ও প্রকাশক, গ্রীনওয়াচ ঢাকা |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এমএ (ঢাবি) |
| উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা | থর্ণী পাথ অব জার্নালিজম (২০২৪), রিভার্স অব লাইফ (২০০৪), গঙ্গার পানি নিয়ে সংঘাত (২০০৫) |
| গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি | শহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা ২০২৪, খন্দকার আবদুল হামিদ সিএনসি পদক ২০২২, এসকাপ/এফইজেবি আওয়ার্ড ১৯৮৭ |
| বিশেষ অবদান | বাংলাদেশে পরিবেশ ও এইসআইভি/এইডস সাংবাদিকতার পথিকৃৎ |
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ
বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে বিদেশি বিষাক্ত বর্জ্য আমদানির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সফল মিডিয়া ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৯৯২ সালে তাঁর অনুসন্ধানী রিপোর্টের চাপে বিদেশ থেকে আমদানি করা বর্জ্য-মিশ্রিত জিঙ্ক অক্সি সালফেট সারের বিতরণ বন্ধ করে আমদানিকারককে তা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে লেখা বই ‘সোনালী স্বপ্নের সন্ধানে’-এর ফলশ্রুতিতেই দেশে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশগত সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়।
পাশাপাশি, বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস সাংবাদিকতারও তিনি পথিকৃৎ। ১৯৯৪ সালে সাংবাদিকদের জন্য প্রথম এই বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমন্বয় করেন তিনি। তাঁর তৈরি করা সাংবাদিকদের লেখনীর কারণেই এইডস বিষয়ে মানুষের ভুল ধারণা ও রোগীদের প্রতি মারমুখী আচরণ ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়।
নদী-পানির অধিকার রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা
দেশের মানুষের নদী ও পানির অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ব্রিটেনের ২৭ জন সাংবাদিককে নিয়ে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গা-নির্ভরশীল এলাকায় তথ্যানুসন্ধানী ভ্রমণের আয়োজন করেন তিনি। এর মাধ্যমে উপমহাদেশের জনগণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সূচনা হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, বাংলাদেশ-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মজীবনে তিনি লন্ডনের প্যানোস ফিচার সার্ভিস ও সানডে টাইমস, দিল্লীর ডাউন টু আর্থ এবং ম্যানিলাস্থ ডেফট-নিউজ এশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও কাজ করেছেন।
সংবাদপত্র সম্পাদনা ও প্রেস ক্লাব আধুনিকায়ন
দ্য নিউ নেশন, দ্য বাংলাদেশ টুডে এবং দ্য এশিয়ান এজ-এর মতো পত্রিকাগুলোর মানোন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জনে তিনি পরামর্শক সম্পাদক হিসেবে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। এছাড়াও তিনি মর্নিং সান, দ্য ডেইলি স্টার এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর মতো শীর্ষ দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাংবাদিকতার বাইরে ২০০৩ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের লাইব্রেরির আধুনিকায়ন ও কম্পিউটারিকরণে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। দেশে জাতীয়ভাবে ইন্টারনেট চালুর আগেই ১৯৯৪ সালে তিনি প্রেস ক্লাবে ই-মেইল ও ইন্টারনেট চালু করেন, যা দেখতে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভিড় জমাত।






















