রাজধানীতে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন: নেপথ্যের কারণ জানাল ডিএমপি
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও অপরাধ
গত দুই দিন ধরে রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক নাশকতার জন্য কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগকে সরাসরি দায়ী করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোল্লা মো. শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
একনজরে ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনের মূল তথ্য:
| বিবরণ | তথ্য |
| সংবাদের মূল বিষয় | রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের রহস্য উদ্ঘাটন |
| দায়ী করা হয়েছে | নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে |
| গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামি | রায়হান (বংশাল ইউনিট আওয়ামী লীগের কর্মী) |
| উদ্ধারকৃত আলামত | ৪টি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল |
| ব্রিফিংকারী কর্মকর্তা | ডিসি মোল্লা মো. শাহীন (ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি) |
জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিই মূল লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মোল্লা মো. শাহীন জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে রাজধানীতে এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক তৈরি করা।
গত বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের সূত্র ধরে রায়হান নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নাশকতার নির্দেশনার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
অভিযান, গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রায়হানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অবিস্ফোরিত অবস্থায় আরও চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে নাশকতায় জড়িত আরও তিন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দুই দিনের নাশকতার চিত্র ও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মগবাজার ও আগারগাঁওসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ওই দিন রাতেই মিরপুরের কাফরুলে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এমন পরিস্থিতির পর ঢাকাজুড়ে দুই শতাধিক স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর সতর্কতার পরও শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মিরপুরসহ অন্তত পাঁচটি এলাকায় যাত্রীবাহী গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি একাধিক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ডিএমপি জানিয়েছে, এসব নাশকতার সঙ্গে জড়িত বাকি অপরাধীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















