কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা: আইফোনের লোভে প্রাণ গেল কিশোরের, সরাসরি জড়িত ৩ জন
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | অপরাধ ও আইন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন সরাসরি এই খুনের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
একনজরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ও পুলিশের ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত:
| বিবরণ | তথ্য |
| নিহতের পরিচয় | ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) |
| হত্যার মূল উদ্দেশ্য | মায়ের আইফোন ছিনতাই |
| মোট গ্রেপ্তার | ৪ জন (তুহিন, ফাহাদ, কামরুল ও সিয়াম) |
| সরাসরি জড়িত | ৩ জন (তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল) |
| লাশ উদ্ধারের স্থান | লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল |
হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও সিসিটিভি ফুটেজ
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর অপ্রতিমের পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাইফুল ইসলাম তুহিন নামের এক তরুণ অপ্রতিমকে ফুসলিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মূলত ওই কিশোরের হাতে থাকা মায়ের আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার লোভেই তাকে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন আসামিরা
পুলিশ সুপার আরও জানান, এই নৃশংস খুনের ঘটনায় ফাহাদ ও তার বন্ধু কামরুল সরাসরি অংশ নেয়। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে এবং ফাহাদের স্বীকারোক্তিতে তার বন্ধু কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া মো. সিয়াম নামের অপর এক তরুণের এই ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিখোঁজ ও মর্মান্তিক পরিণতি
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের ফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি গভীর জঙ্গল থেকে তার মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান।

























