জাতিসংঘে জিয়াউর রহমানের প্রথম ভাষণ: স্বনির্ভরতা ও আঞ্চলিক ঐক্যের যে পথ দেখিয়েছিলেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক
১৯৮০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রথম ঐতিহাসিক ভাষণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পর, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তার ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এক অনন্য ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে।
একনজরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জিয়া পরিবারের প্রতিনিধিত্ব:
| রাষ্ট্রনেতার নাম | ভাষণের তারিখ | মূল ফোকাস |
| শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান | ২৬ আগস্ট ১৯৮০ | স্বনির্ভরতা, কৃষি উন্নয়ন ও দক্ষিণ এশীয় ঐক্য |
| সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া | ১ অক্টোবর ১৯৯৩ | গণতান্ত্রিক অধিকার ও বৈশ্বিক শান্তি |
| প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | জলবায়ু, টেকসই উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকট (নির্ধারিত) |
স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
১৯৮০ সালের সেই ভাষণে জিয়াউর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের কঠিন বাস্তবতাগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। জাপান ও নেদারল্যান্ডসের চেয়ে দ্বিগুণ জনসংখ্যার ঘনত্বের এই দেশে বেকারত্ব, ভূমিহীন কৃষক এবং খাদ্যঘাটতির মতো বিশাল চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রতি বছর নতুন ২০ লাখ মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, “আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাইনি এবং হবোও না।”
স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করা এবং ১৯৮৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনার রূপরেখা দেন। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ৯ কোটি মানুষকে দেশের মূল অর্থনীতির সাথে যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
দক্ষিণ এশীয় ঐক্য ও বিশ্বশান্তির রূপরেখা
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন যে অসম্ভব, তা গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সে কারণেই তিনি তার ভাষণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা পরবর্তীতে সার্ক (SAARC)-এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি এ অঞ্চলে যেকোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন।
পাশাপাশি, উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে ব্রান্ডট কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অনুদান বাড়ানো, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছিলেন তৎকালীন এই রাষ্ট্রপতি।
পিতার দেখানো পথে এবার জাতিসংঘে তারেক রহমান
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে তিনি বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ ধরেই বিশ্বমঞ্চে জাতীয় ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করবে বাংলাদেশ।





















