গঙ্গার পানিবণ্টনে ভারতের সঙ্গে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ যুক্ত নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও পরিবেশ
চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। মেয়াদ শেষে এই চুক্তির আর কোনো সাধারণ নবায়ন (রিনিউ) চাইছে না বাংলাদেশ। বরং দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা ও জাতীয় স্বার্থ শতভাগ নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ বা নিশ্চয়তার শর্ত যুক্ত করে একটি সম্পূর্ণ নতুন চুক্তি সম্পাদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকায় নদী বিষয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা সুস্পষ্ট করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
একনজরে গঙ্গার পানিবণ্টনে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান:
| বিবরণ | তথ্য |
| বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ | ডিসেম্বর, ২০২৬ |
| বাংলাদেশের প্রধান দাবি | পুরোনো চুক্তি নবায়ন নয়, সম্পূর্ণ নতুন চুক্তি |
| নতুন চুক্তির মূল শর্ত | পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্তি |
| বক্তা | পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি |
নবায়ন নয়, চাই গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তি
সংলাপে পানিসম্পদমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা কেবল নবায়ন করার পক্ষে নয় ঢাকা। বরং বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার্থে একটি নতুন চুক্তি বাস্তবায়ন করা জরুরি। আর সেই নতুন চুক্তিতে অবশ্যই একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ থাকতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় পানির ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকু পায়।
অর্থনীতির চালিকাশক্তি নদী ও দূষণ রোধ
বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে দেশের নদ-নদীর বর্তমান করুণ দশার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী এ্যানি। তিনি বলেন, নদী হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আমাদের নদীগুলো আজ চরম হুমকির মুখে। নদী দূষণের মূল কারণগুলো দ্রুত খুঁজে বের করে তা সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।
ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় অগ্রাধিকার
রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে এর চারপাশের নদীগুলোর প্রাণ ফেরানোর তাগিদ দেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এসব নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য এবং সার্বিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই নদী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।




















