০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু: বিগত সরকারের অবহেলার খেসারত দিচ্ছে দেশ

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

“বিগত সরকার সময়মতো হামের টিকা না দেওয়ায় আজ পুরো দেশকে তার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে”— এই কঠোর মন্তব্য ও আক্ষেপের মধ্য দিয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন[cite: 2]। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে, যেখানে সারা দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস (প্রায় ৫ বছর) বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনা হবে[cite: 2]।

রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি (T&T) খেলার মাঠে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ শাখাওত হোসেন[cite: 2]। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএম মুহিত[cite: 2]।

একনজরে হাম-রুবেলা বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন:

বিবরণতথ্য
ক্যাম্পেইনের সময়কাল২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত[cite: 2]
লক্ষ্যমাত্রা৩৪ লাখ শিশু (৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী)[cite: 2]
নতুন জন্ম নেওয়া শিশু১০ লাখ (লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত)[cite: 2]
বাদ পড়া শিশু২৪ লাখ (লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত)[cite: 2]
টিকার জোগানইউনিসেফ প্রদত্ত ৪০ লাখ ডোজ এবং পূর্বের স্টক[cite: 2]

বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ জোর

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ শাখাওত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ হওয়ায় এখানে হামের প্রাদুর্ভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত সরকারের সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে যে অবহেলা ও সমন্বয়হীনতা ছিল, আজ আমাদের শিশুদের সেই ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে[cite: 2]।” তিনি প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হওয়ার এবং নিজ উদ্যোগে শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান[cite: 2]।

এর আগে, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ধাপে ধাপে দেশের বিশাল একটি অংশকে টিকার আওতায় আনা হলেও, সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক শিশু সেই মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়ে যায়[cite: 2]। বর্তমান সরকারের এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্যই হলো সেই বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা[cite: 2]।

ইউনিসেফের ৪০ লাখ ডোজ টিকা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ গত ১০ দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে[cite: 2]।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউনিসেফের এই ৪০ লাখ ডোজের পাশাপাশি সরকারের কাছে আগে থেকেই কিছু টিকার স্টক মজুত ছিল[cite: 2]। সব মিলিয়ে এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ শিশু নতুন জন্ম নেওয়া এবং বাকি ২৪ লাখ শিশু গত এপ্রিলে শুরু হওয়া মূল কর্মসূচি থেকে কোনো না কোনো কারণে বাদ পড়েছিল[cite: 2]।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। জনবহুল দেশে একটি শিশু টিকা থেকে বাদ পড়া মানে পুরো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি হওয়া। বিগত সময়ের প্রশাসনিক অবহেলায় লাখ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে যাওয়াটা জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ছিল। বর্তমান সরকারের এই ‘ক্যাচ-আপ’ বা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে শুধু টিকাদানই নয়, এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো অভিভাবকই তার সন্তানকে টিকার বাইরে না রাখেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১১:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৬ Time View

হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু: বিগত সরকারের অবহেলার খেসারত দিচ্ছে দেশ

Update Time : ১১:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

“বিগত সরকার সময়মতো হামের টিকা না দেওয়ায় আজ পুরো দেশকে তার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে”— এই কঠোর মন্তব্য ও আক্ষেপের মধ্য দিয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন[cite: 2]। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে, যেখানে সারা দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস (প্রায় ৫ বছর) বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনা হবে[cite: 2]।

রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি (T&T) খেলার মাঠে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ শাখাওত হোসেন[cite: 2]। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএম মুহিত[cite: 2]।

একনজরে হাম-রুবেলা বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন:

বিবরণতথ্য
ক্যাম্পেইনের সময়কাল২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত[cite: 2]
লক্ষ্যমাত্রা৩৪ লাখ শিশু (৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী)[cite: 2]
নতুন জন্ম নেওয়া শিশু১০ লাখ (লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত)[cite: 2]
বাদ পড়া শিশু২৪ লাখ (লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত)[cite: 2]
টিকার জোগানইউনিসেফ প্রদত্ত ৪০ লাখ ডোজ এবং পূর্বের স্টক[cite: 2]

বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ জোর

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ শাখাওত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ হওয়ায় এখানে হামের প্রাদুর্ভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত সরকারের সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে যে অবহেলা ও সমন্বয়হীনতা ছিল, আজ আমাদের শিশুদের সেই ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে[cite: 2]।” তিনি প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হওয়ার এবং নিজ উদ্যোগে শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান[cite: 2]।

এর আগে, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ধাপে ধাপে দেশের বিশাল একটি অংশকে টিকার আওতায় আনা হলেও, সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক শিশু সেই মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়ে যায়[cite: 2]। বর্তমান সরকারের এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্যই হলো সেই বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা[cite: 2]।

ইউনিসেফের ৪০ লাখ ডোজ টিকা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ গত ১০ দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে[cite: 2]।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউনিসেফের এই ৪০ লাখ ডোজের পাশাপাশি সরকারের কাছে আগে থেকেই কিছু টিকার স্টক মজুত ছিল[cite: 2]। সব মিলিয়ে এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ শিশু নতুন জন্ম নেওয়া এবং বাকি ২৪ লাখ শিশু গত এপ্রিলে শুরু হওয়া মূল কর্মসূচি থেকে কোনো না কোনো কারণে বাদ পড়েছিল[cite: 2]।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। জনবহুল দেশে একটি শিশু টিকা থেকে বাদ পড়া মানে পুরো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি হওয়া। বিগত সময়ের প্রশাসনিক অবহেলায় লাখ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে যাওয়াটা জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ছিল। বর্তমান সরকারের এই ‘ক্যাচ-আপ’ বা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে শুধু টিকাদানই নয়, এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো অভিভাবকই তার সন্তানকে টিকার বাইরে না রাখেন।