১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী: মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও উন্নয়ন

ফেনী জেলার নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্দশা লাঘব এবং বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি বিশাল সেচ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জেলার পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় তিনি ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ মেগা প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেন।

একনজরে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের রূপরেখা:

বিবরণতথ্য
প্রকল্পের নামমুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)
মোট বরাদ্দ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা
বাঁধ পুনর্বাসন ও নদীতীর সংরক্ষণযথাক্রমে ৬৭.৯২ কিলোমিটার এবং ১১.৭৩ কিলোমিটার
নদী ও জলাধার পুনঃখনন৮৩.৫০ কিলোমিটার
প্রকল্পের সমাপ্তিকাল২০৩০ সালের মধ্যে (সম্ভাব্য)

বন্যার স্থায়ী সমাধান ও কৃষি উন্নয়নে মেগা প্রকল্প

ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর আকস্মিক বন্যা প্রতি বছরই স্থানীয় কৃষকদের ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করে। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো এই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্থায়ীভাবে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। প্রকল্পের আওতায় ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে, যা কৃষকদের শুষ্ক মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা প্রদান করবে। আগামীতে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও সংস্কারকাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নদীর পাড়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

দিনব্যাপী ফেনী সফর ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি

এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর সোয়া একটার দিকে ফেনীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরশুরামের কর্মসূচি শেষে তিনি ফুলগাজীতে অবস্থিত বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করেন।

এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে ছাদভিত্তিক (Rooftop) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এক যুগান্তকারী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। জানা গেছে, ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে।

তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অংশ নেন। সেখানে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি ফুলগাজীর ৫১০ জনকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এছাড়া স্থানীয় ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সরকারিভাবে সম্মানী ভাতা প্রদান করেন তিনি। দিনব্যাপী এই কর্মব্যস্ত সফর শেষে আজ সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা ও উদ্বোধন করেছেন, তা জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর বন্যার যে অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়, তা থেকে স্থানীয়রা স্থায়ী মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক মানুষের হাতে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সরকার তৃণমূলের সুষম উন্নয়নকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। এই সফর শুধু ফেনীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণই করেনি, বরং জাতীয় পর্যায়েও সরকারের উন্নয়নমূলক দর্শনের একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৩:৪২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১১১ Time View

ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী: মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন

Update Time : ০৩:৪২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও উন্নয়ন

ফেনী জেলার নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্দশা লাঘব এবং বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি বিশাল সেচ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জেলার পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় তিনি ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ মেগা প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেন।

একনজরে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের রূপরেখা:

বিবরণতথ্য
প্রকল্পের নামমুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)
মোট বরাদ্দ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা
বাঁধ পুনর্বাসন ও নদীতীর সংরক্ষণযথাক্রমে ৬৭.৯২ কিলোমিটার এবং ১১.৭৩ কিলোমিটার
নদী ও জলাধার পুনঃখনন৮৩.৫০ কিলোমিটার
প্রকল্পের সমাপ্তিকাল২০৩০ সালের মধ্যে (সম্ভাব্য)

বন্যার স্থায়ী সমাধান ও কৃষি উন্নয়নে মেগা প্রকল্প

ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর আকস্মিক বন্যা প্রতি বছরই স্থানীয় কৃষকদের ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করে। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো এই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্থায়ীভাবে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। প্রকল্পের আওতায় ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে, যা কৃষকদের শুষ্ক মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা প্রদান করবে। আগামীতে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও সংস্কারকাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নদীর পাড়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

দিনব্যাপী ফেনী সফর ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি

এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর সোয়া একটার দিকে ফেনীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরশুরামের কর্মসূচি শেষে তিনি ফুলগাজীতে অবস্থিত বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করেন।

এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে ছাদভিত্তিক (Rooftop) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এক যুগান্তকারী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। জানা গেছে, ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে।

তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অংশ নেন। সেখানে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি ফুলগাজীর ৫১০ জনকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এছাড়া স্থানীয় ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সরকারিভাবে সম্মানী ভাতা প্রদান করেন তিনি। দিনব্যাপী এই কর্মব্যস্ত সফর শেষে আজ সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা ও উদ্বোধন করেছেন, তা জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর বন্যার যে অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়, তা থেকে স্থানীয়রা স্থায়ী মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক মানুষের হাতে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সরকার তৃণমূলের সুষম উন্নয়নকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। এই সফর শুধু ফেনীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণই করেনি, বরং জাতীয় পর্যায়েও সরকারের উন্নয়নমূলক দর্শনের একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।