দেশের ভেতর-বাইরের সব ষড়যন্ত্রকারীকে একে একে জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | রাজনীতি
দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
একনজরে সংবাদ সারসংক্ষেপ:
| বিবরণ | তথ্য |
| অনুষ্ঠান/উপলক্ষ | জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশ |
| স্থান ও তারিখ | নয়াপল্টন, ঢাকা; ৭ নভেম্বর ২০২৬ |
| প্রধান বক্তা | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |
| প্রধান বক্তব্য | দেশের ভেতর-বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা |
| বিশেষ আহ্বান | গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ইস্যুতে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলা |
ঐতিহাসিক আন্দোলন ও ষড়যন্ত্রের অতীত প্রেক্ষাপট
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করার সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার পর থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি।
তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং পরবর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ওই দিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরায় উদ্ধার করেছে।
জাতীয় ঐক্যের ডাক ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি হুশিয়ারি
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চক্রান্ত করছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ রাখা উচিত নয়।’
পরশেষে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।’
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে নয়াপল্টনের বিশাল জনসমুদ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া এই ভাষণ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্পষ্ট একটি বার্তা। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭৫-এর ৭ নভেম্বর, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথে তিনি যেমন ইতিহাস ও সার্বভৌমত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, তেমনই সম্ভাব্য দেশি-বিদেশি চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও টেকসই করতে সাহায্য করবে।

















