০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিলা এমপি হতে চান নাটোরের পাঁচ বিএনপি নেত্রী

বাম থেকে: সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, অ্যাভোকেট আইনুন নাহার, মহুয়া নূর কচি, সানজিদা ইয়াসমিন তুলি

য়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে নাটোরে বিএনপির কয়েকজন নারী নেত্রীকে নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দলের সম্ভাব্য ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী নাটোরের পাঁচ নেত্রী ইতোমধ্যে দলীয় মহলে সক্রিয় যোগাযোগ রাখছেন।

আলোচনায় থাকা নেত্রীরা হলেন—সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাবেক এমপি সুফিয়া হক, অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার, মহুয়া নূর কচি ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন ছবি

জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন ছবি নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তার স্বামী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু কারাবন্দি থাকাকালে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলান তিনি। সমর্থকদের দাবি, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

সুফিয়া হক

জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক এমপি সুফিয়া হকও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বল্প সময়ের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রয়াত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হকের সহধর্মিণী সুফিয়া হক দীর্ঘদিন দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। তার প্রত্যাশা, এবার দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আইনুন নাহার ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৯১ সালে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার তিনি দলের বিবেচনায় আসার আশায় আছেন।

মহুয়া নূর কচি

বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ মহুয়া নূর কচি। তার স্বামী সানাউল্লাহ নূর বাবু ২০১০ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন। এরপর থেকে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

সানজিদা ইয়াসমিন তুলি

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এলাকার নেত্রী সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে হামলা ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ তার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতা নিয়ে নাটোর বিএনপিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই পাঁচ নেত্রী। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে, কে পাচ্ছেন সংসদের সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০২:৪০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
২৭ Time View

মহিলা এমপি হতে চান নাটোরের পাঁচ বিএনপি নেত্রী

Update Time : ০২:৪০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

য়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে নাটোরে বিএনপির কয়েকজন নারী নেত্রীকে নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দলের সম্ভাব্য ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী নাটোরের পাঁচ নেত্রী ইতোমধ্যে দলীয় মহলে সক্রিয় যোগাযোগ রাখছেন।

আলোচনায় থাকা নেত্রীরা হলেন—সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাবেক এমপি সুফিয়া হক, অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার, মহুয়া নূর কচি ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন ছবি

জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন ছবি নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তার স্বামী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু কারাবন্দি থাকাকালে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলান তিনি। সমর্থকদের দাবি, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

সুফিয়া হক

জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক এমপি সুফিয়া হকও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বল্প সময়ের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রয়াত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হকের সহধর্মিণী সুফিয়া হক দীর্ঘদিন দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। তার প্রত্যাশা, এবার দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আইনুন নাহার ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৯১ সালে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার তিনি দলের বিবেচনায় আসার আশায় আছেন।

মহুয়া নূর কচি

বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ মহুয়া নূর কচি। তার স্বামী সানাউল্লাহ নূর বাবু ২০১০ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন। এরপর থেকে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

সানজিদা ইয়াসমিন তুলি

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এলাকার নেত্রী সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে হামলা ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ তার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতা নিয়ে নাটোর বিএনপিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই পাঁচ নেত্রী। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে, কে পাচ্ছেন সংসদের সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন।