০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেল ক্রয়ের সীমা বেঁধে দিলো সরকার

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যানবাহনে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহনে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সব ফিলিং স্টেশনের জন্য এই নির্দেশনা জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে ডিলাররাও আগের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

এছাড়া কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নজরে এসেছে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে নিয়মিত তেল আমদানি করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চালান দেশে আসছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেল বিক্রির সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় সেই রসিদ প্রদর্শন করতে হবে।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দ ও ভোক্তার ক্রয় রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।

কোন যানবাহনে কত লিটার তেল পাওয়া যাবে

  • মোটরসাইকেল: দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন
  • ব্যক্তিগত গাড়ি: ১০ লিটার
  • এসইউভি বা জিপ ও মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার
  • পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল
  • দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক: ২০০ থেকে ২২০ লিটার

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছেন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:০৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
৪৮ Time View

জ্বালানি তেল ক্রয়ের সীমা বেঁধে দিলো সরকার

Update Time : ০১:০৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যানবাহনে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহনে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সব ফিলিং স্টেশনের জন্য এই নির্দেশনা জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে ডিলাররাও আগের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

এছাড়া কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নজরে এসেছে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে নিয়মিত তেল আমদানি করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চালান দেশে আসছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেল বিক্রির সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় সেই রসিদ প্রদর্শন করতে হবে।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দ ও ভোক্তার ক্রয় রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।

কোন যানবাহনে কত লিটার তেল পাওয়া যাবে

  • মোটরসাইকেল: দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন
  • ব্যক্তিগত গাড়ি: ১০ লিটার
  • এসইউভি বা জিপ ও মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার
  • পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল
  • দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক: ২০০ থেকে ২২০ লিটার

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছেন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন।