০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন বন্ধ ৩ মাস ধরে

তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সেবা নিতে আগ্রহীদের সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।

এর আগে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে করা যেত। আবেদন সম্পন্ন করে তার অনুলিপি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিবন্ধন অফিসে উপস্থিত হতেন এবং সেখান থেকে সনদ সংগ্রহ করতেন। জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও গত তিন মাস ধরে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ভাতা, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন, পেনশন পাওয়া, জমিজমা বা সম্পত্তির নামজারি—এ ধরনের বিভিন্ন প্রয়োজনে মৃত্যুনিবন্ধন সনদ দরকার হয়। কোনো মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধনের আগে তার জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।

জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি দিতে হয় না। ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে করলে ২৫ টাকা এবং ৫ বছর অতিক্রম করলে ৫০ টাকা ফি প্রযোজ্য। তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন শেষে সনদ সংগ্রহ করতে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা ইউপি সচিব সহকারী নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ইউপি চেয়ারম্যান নিবন্ধক। সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।

সরকারি ওয়েবসাইট (https://bdris.gov.bd/) এর মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজ করা হয়। বর্তমানে সেখানে আবেদন করতে গেলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছে, যা নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধন আবেদন বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, তিনি অল্প সময় আগে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছেন না।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু মৃত্যুনিবন্ধনের অনলাইন আবেদন বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে একটি চক্র জড়িত থাকার খবর পাওয়ার পর গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ বন্ধ করা হয়।

এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন আগে না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধনের আগে জন্মনিবন্ধন করতে হয়। কিছু ব্যক্তি এসব তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করেছে। বিষয়টি জানার পর সিস্টেমের কিছু সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন, মৃত্যুসনদ প্রিন্ট এবং পুনর্মুদ্রণ সেবা।

রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন বন্ধ থাকলেও সরাসরি নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন করা যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৩ Time View

অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন বন্ধ ৩ মাস ধরে

Update Time : ০৯:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সেবা নিতে আগ্রহীদের সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।

এর আগে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে করা যেত। আবেদন সম্পন্ন করে তার অনুলিপি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিবন্ধন অফিসে উপস্থিত হতেন এবং সেখান থেকে সনদ সংগ্রহ করতেন। জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও গত তিন মাস ধরে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ভাতা, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন, পেনশন পাওয়া, জমিজমা বা সম্পত্তির নামজারি—এ ধরনের বিভিন্ন প্রয়োজনে মৃত্যুনিবন্ধন সনদ দরকার হয়। কোনো মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধনের আগে তার জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।

জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি দিতে হয় না। ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে করলে ২৫ টাকা এবং ৫ বছর অতিক্রম করলে ৫০ টাকা ফি প্রযোজ্য। তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন শেষে সনদ সংগ্রহ করতে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা ইউপি সচিব সহকারী নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ইউপি চেয়ারম্যান নিবন্ধক। সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।

সরকারি ওয়েবসাইট (https://bdris.gov.bd/) এর মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজ করা হয়। বর্তমানে সেখানে আবেদন করতে গেলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছে, যা নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধন আবেদন বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, তিনি অল্প সময় আগে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছেন না।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু মৃত্যুনিবন্ধনের অনলাইন আবেদন বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে একটি চক্র জড়িত থাকার খবর পাওয়ার পর গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ বন্ধ করা হয়।

এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন আগে না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধনের আগে জন্মনিবন্ধন করতে হয়। কিছু ব্যক্তি এসব তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করেছে। বিষয়টি জানার পর সিস্টেমের কিছু সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন, মৃত্যুসনদ প্রিন্ট এবং পুনর্মুদ্রণ সেবা।

রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন বন্ধ থাকলেও সরাসরি নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন করা যাচ্ছে।