এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঐক্যের বার্তা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ
এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগ্রহীত
জাতীয় সংসদে মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও দেশের স্বার্থে সব দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে— এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জাতীয় সংসদে আমাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থাকবে, বহুমত থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐকমত্যে থাকব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহার, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। এনসিপি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এনসিপি একটি তারুণ্যনির্ভর ও প্রগতিশীল দল। জনগণ তাদের গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এনসিপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা জাতীয় সংসদে বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটে অনুমোদিত প্রতিশ্রুতিগুলো সংবিধানে প্রতিফলনের আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্ন পূরণের কথাও বলেন তিনি।
এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল— “দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। সূচনা বক্তব্য দেন শহীদ আহনাফের বোন অ্যাডভোকেট সাইয়েদা আক্তার। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত ও দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা।

সমাপনী বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এনসিপির লক্ষ্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে সংস্কার বাস্তবায়ন ও গণরায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে দল সক্রিয় থাকবে বলেও জানান।
অনুষ্ঠানে গত এক বছরে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সানাউল্লাহ খান। দেশ ও জাতির কল্যাণ, রমজানের রোজা কবুল এবং সব ধরনের আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য দোয়া করা হয়।
ইফতার মাহফিলে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন এবং এবি পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির উত্থান, সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ছয়টি আসনে জয় তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

























