০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ: বাঙালির স্বপ্ন ও স্বাধীনতার মাস

আজ ১লা মার্চ। শুরু হলো বাঙালির বীরত্বগাথা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর স্মৃতিবিজড়িত এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগানো অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসেই সূচিত হয়েছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর: বাঙালি জাতি এ বছর তার স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই মাসটিকে বরণ করে নিতে আজ সকাল থেকেই সারা দেশে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় পতাকায় শোভিত রাজপথ আর দেশাত্মবোধক গানের সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা দেশ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের শিকার হয়ে আসছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা। সেই বঞ্চনার প্রতিবাদে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়। আর এই মার্চ মাসেই সেই আন্দোলন এক চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

গণহত্যা ও প্রতিরোধ: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে চালানো হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। সেই নিধনযজ্ঞের মধ্য দিয়েই ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যা কয়েক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।

মার্চের চেতনা: মার্চ মানেই আত্মত্যাগের শোক, আর মার্চ মানেই লড়াইয়ের দুর্জয় সাহস। এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ৭ই মার্চের অমর ভাষণ আর লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকার কথা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
৩০ Time View

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ: বাঙালির স্বপ্ন ও স্বাধীনতার মাস

Update Time : ০৪:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

আজ ১লা মার্চ। শুরু হলো বাঙালির বীরত্বগাথা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর স্মৃতিবিজড়িত এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগানো অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসেই সূচিত হয়েছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর: বাঙালি জাতি এ বছর তার স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই মাসটিকে বরণ করে নিতে আজ সকাল থেকেই সারা দেশে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় পতাকায় শোভিত রাজপথ আর দেশাত্মবোধক গানের সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা দেশ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের শিকার হয়ে আসছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা। সেই বঞ্চনার প্রতিবাদে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়। আর এই মার্চ মাসেই সেই আন্দোলন এক চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

গণহত্যা ও প্রতিরোধ: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে চালানো হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। সেই নিধনযজ্ঞের মধ্য দিয়েই ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যা কয়েক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।

মার্চের চেতনা: মার্চ মানেই আত্মত্যাগের শোক, আর মার্চ মানেই লড়াইয়ের দুর্জয় সাহস। এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ৭ই মার্চের অমর ভাষণ আর লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকার কথা।