০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?

ঢাকা: বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে একাধিক দেশের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে প্রথম সফর কোন দেশে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সফর নির্ধারণে কাজ চলছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর চীন, ভারত, জাপান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনাই বর্তমানে বেশি। ওই সফরে তিনি ওমরাহ পালন করতে পারেন এবং সৌদি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও হতে পারে।

তবে আরেকটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরের জন্য ভুটানকেও বিবেচনায় রাখতে পারেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ভুটান। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন এবং সেসময় তিনি তারেক রহমানকে থিম্পু সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সৌদি আরব সফরের জোরালো সম্ভাবনা

সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে সৌদি আরব যান এবং ওআইসির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে অংশ নেন। সফরকালে তিনি সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সৌদি সফর নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি পক্ষও শিগগিরই তারেক রহমানের সফরের আশা প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বেশ এগিয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রথম সফর সৌদি আরবেই হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সফর

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। কোন দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তা থেকে পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত যেসব দেশের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর, সেসব দেশই প্রথম সফরের তালিকায় গুরুত্ব পায়।

বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রণ

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টেলিফোনে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারত সফরের আহ্বান জানান। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। একইভাবে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারপ্রধানরাও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অতীতের প্রেক্ষাপট

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই প্রথম সফর হিসেবে ভারতকে প্রাধান্য দিতেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত নয়, চীনকে বেছে নিয়েছিলেন। ফলে তারেক রহমানের প্রথম সফর কোন দেশে হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিক দেশের আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে প্রথম সফর কোন দেশে হবে, সে বিষয়ে জানতে হলে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন দেশ দিয়ে শুরু হয় তার কূটনৈতিক সফর।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
৪৭ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?

Update Time : ০৪:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ঢাকা: বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে একাধিক দেশের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে প্রথম সফর কোন দেশে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সফর নির্ধারণে কাজ চলছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর চীন, ভারত, জাপান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনাই বর্তমানে বেশি। ওই সফরে তিনি ওমরাহ পালন করতে পারেন এবং সৌদি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও হতে পারে।

তবে আরেকটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরের জন্য ভুটানকেও বিবেচনায় রাখতে পারেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ভুটান। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন এবং সেসময় তিনি তারেক রহমানকে থিম্পু সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সৌদি আরব সফরের জোরালো সম্ভাবনা

সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে সৌদি আরব যান এবং ওআইসির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে অংশ নেন। সফরকালে তিনি সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সৌদি সফর নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি পক্ষও শিগগিরই তারেক রহমানের সফরের আশা প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বেশ এগিয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রথম সফর সৌদি আরবেই হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সফর

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। কোন দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তা থেকে পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত যেসব দেশের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর, সেসব দেশই প্রথম সফরের তালিকায় গুরুত্ব পায়।

বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রণ

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টেলিফোনে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারত সফরের আহ্বান জানান। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। একইভাবে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারপ্রধানরাও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অতীতের প্রেক্ষাপট

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই প্রথম সফর হিসেবে ভারতকে প্রাধান্য দিতেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত নয়, চীনকে বেছে নিয়েছিলেন। ফলে তারেক রহমানের প্রথম সফর কোন দেশে হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিক দেশের আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে প্রথম সফর কোন দেশে হবে, সে বিষয়ে জানতে হলে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন দেশ দিয়ে শুরু হয় তার কূটনৈতিক সফর।