আইনশৃঙ্খলা: নয়া সরকারের প্রথম পাক্ষিকে দৃশ্যমান উন্নতি নেই
নির্বাচিত সরকারের প্রথম পাক্ষিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খুব একটা দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। খুন, ধর্ষণ আর চাঁদাবাজি ছিল গত দুই সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। এর মধ্যে প্রকাশ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। যা আবার প্রথমবার, তা-ও নয়।
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে হত্যা; এর রেশ কাটতে না কাটতেই পাবনায় একই অভিযোগ এবং দুইজনকে খুন। তারও রেশ না কাটতেই সীতাকুন্ডে এক শিশুর ওপর পৈশাচিত নির্যাতন ও হত্যা। সবশেষ খুলনায় প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতাকে হত্যা।
এদিকে, গত ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে নতুন আইজিপি নিয়োগ করে সরকার। নানা সংকট কাটিয়ে পুলিশকে জনমুখী করার উদ্যোগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, কাদের কী সমস্যা আছে, টেবল অব অর্গানোগ্রাম, যন্ত্রপাতি— ইত্যাদিতে আমাদের কী প্রয়োজন আছে। কী কী উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজন আছে, এগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং নির্দেশনা দিচ্ছি।
এসব উদ্যোগে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটুকু আত্মবিশ্বাসী; পরিকল্পনাই-বা কী, তা জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি পুলিশের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় পুলিশকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগের ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। সেখানে থেকে এই বাহিনীকে উদ্ধার করা খুব সহজ নয়। আবার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারে যে কমিশন হয়েছিল সেটিরও তেমন কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। বিএনপি বলেছে তারা এই বাহিনীর সংস্কার করবে, সেটাও কতটুকু করবে এবং কতদিন লাগবে সেটা অনিশ্চিত।
অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, পুলিশকে ফাংশনাল ও ইফেক্টিভ করতে চাইলে দুইটি কাজ করা জরুরি। একটা হচ্ছে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া; কেবল স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলেই হবে না, যারা প্রফেশনালি সাউন্ড ও দক্ষ, পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে পারে তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রমোট করা। আর সে যেন ওই আইনের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারে, সেই জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী যদি আগের মতোই ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ বাহিনীর মতো আচরণ করে, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সরকারের ওপর।
অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, রুল অব ল বাস্তবায়ন করার জন্য সব ইন্সট্রুমেন্ট আছে। কিন্তু আমাদের সদিচ্ছা নাই। পুলিশকে চাইতে হবে তারা স্বতন্ত্র হোক এবং জবাবদিহিতা থাকুক। পাশাপাশি পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে চাইতে হবে। জনগণ সবসময় চায়; আর সরকার না চাইলে দীর্ঘমেয়াদি তাদের ক্ষতি কীভাবে হয় আমরা দেখেছি। পুলিশ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে কোনো সরকার আজ পর্যন্ত পরবর্তী নির্বাচনে সুফল বয়ে আনতে পারে না।
এর মধ্যে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পুরনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি দেশে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। যদিও এ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-‘না’ কিছুই বলেনি সরকার।





















