০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবারসহ সাবেক সচিবে বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিম ও পুত্র মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনজনের সহযোগিতায় ২০১২ সালে তারা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি ভুয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। খায়রুল ইসলামের স্ত্রীর নামে মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং পুত্রের নামে মেঘমালা এস্টেট লিমিটেড। এই কোম্পানিগুলোর নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র গুলশান শাখা থেকে ২০ কোটি টাকা করে মোট ৪০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়।

ঋণের অর্থ আড়াল করার জন্য তা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও লেয়ারিং করা হয়। প্রাপ্ত অর্থ মোরসালিন ইসলামের সৌরদ্বীপের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র ধানমন্ডি শাখায় জমা দেওয়া হয়। পরে ৪০ কোটি টাকা ডেবিট করে বনশ্রী শাখার ইউনিয়ন ব্যাংক (প্রস্তাবিত) নামে একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ঋণের অর্থ দিয়ে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপ স্পন্সর শেয়ার ক্রয় করেন এবং এভাবে তারা ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণা ও মানিলন্ডারিং করেন।

এই ঘটনায় খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধে ডিএমপির গুলশান থানায় মামলা নং-১৫, তারিখ-০৫/০৩/২০২৬, ধারা-মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) ৪(২)/৪(৪) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তারা আরো বলছে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
৬৭ Time View

পরিবারসহ সাবেক সচিবে বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

Update Time : ০৪:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিম ও পুত্র মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনজনের সহযোগিতায় ২০১২ সালে তারা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি ভুয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। খায়রুল ইসলামের স্ত্রীর নামে মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং পুত্রের নামে মেঘমালা এস্টেট লিমিটেড। এই কোম্পানিগুলোর নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র গুলশান শাখা থেকে ২০ কোটি টাকা করে মোট ৪০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়।

ঋণের অর্থ আড়াল করার জন্য তা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও লেয়ারিং করা হয়। প্রাপ্ত অর্থ মোরসালিন ইসলামের সৌরদ্বীপের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র ধানমন্ডি শাখায় জমা দেওয়া হয়। পরে ৪০ কোটি টাকা ডেবিট করে বনশ্রী শাখার ইউনিয়ন ব্যাংক (প্রস্তাবিত) নামে একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ঋণের অর্থ দিয়ে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপ স্পন্সর শেয়ার ক্রয় করেন এবং এভাবে তারা ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণা ও মানিলন্ডারিং করেন।

এই ঘটনায় খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধে ডিএমপির গুলশান থানায় মামলা নং-১৫, তারিখ-০৫/০৩/২০২৬, ধারা-মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) ৪(২)/৪(৪) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তারা আরো বলছে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।