ছাত্রদল নেত্রী নওরীনের জীবন বদলে দিয়েছিল লকডাউনের এক দৃশ্য: নেপথ্যে এক মানবিক লড়াই
ফিচার ডেস্ক | ঢাকা
সময়টা ২০২০ সালের জুন মাস। করোনার প্রকোপে নিস্তব্ধ গোটা দেশ। রাজধানীর ধানমন্ডির রেড জোনে ঘরবন্দি জীবন কাটছিল জান্নাতুল নওরীন উর্মির। কিন্তু টেলিভিশনের পর্দায় দেখা একটি দৃশ্য তাঁর যাপিত জীবনের চিন্তাধারাকে আমূল বদলে দেয়। ফুটপাতে এক ক্ষুধার্ত সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারা মায়ের কান্নার সেই দৃশ্যটি স্থির থাকতে দেয়নি নওরীনকে।

নির্যাতনের ক্ষত নিয়েও রাস্তায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নওরীনের জন্য সেই সময়টা সহজ ছিল না। রাজনীতি করার অপরাধে ২০২০ সালের ১ মার্চ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। মাথায় আঘাত, জ্যামিতি বক্সের কাঁটাকম্পাস দিয়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত করা থেকে শুরু করে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল পা। সেই অসুস্থ শরীর আর শারীরিক দুর্বলতা নিয়েই পরিবারের বাধা পেরিয়ে লকডাউনের রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। খুঁজে বের করেছিলেন সেই অসহায় মা ও শিশুকে।
একবেলা খাবার থেকে দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগ নওরীন জানান, প্রথমে শুধুমাত্র একজন মা ও শিশুর জন্য খাবার নিয়ে বের হলেও রাস্তার বাস্তব চিত্র তাঁকে স্তম্ভিত করে দেয়। অসংখ্য মানুষ খাবারের আশায় তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন। সেই দিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—যতদিন সামর্থ্য আছে, এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবেন। পরিবারের হোস্টেল ব্যবসার রান্নাঘরকে কাজে লাগিয়ে শুরু হয় ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রতিদিনের খাবার তৈরি। এরপর থেকে গত ছয় বছর ধরে নিজের টিউশনির টাকা জমিয়ে রমজান মাসে নিয়মিত ইফতার বিতরণ করছেন তিনি।

বাধা পেরিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মানবিক কাজ করতে গিয়েও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে নওরীনকে। তবুও পিছু হটেননি তিনি। নওরীনের এই কাজে এখন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রান্না থেকে শুরু করে প্যাকেজিং—সবই করেন তাঁরা এক সাথে।
নওরীন বলেন, “আমি বড় কোনো কাজ করছি না, শুধু চেষ্টা করছি সামর্থ্যের ভেতরে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সমাজসেবা কখনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। আমাদের উচিত দল-মত বা ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা।”
ব্যক্তিগত দুঃখ আর রাজনীতির কঠিন পথ পেরিয়ে নওরীন এখন শত শত ছিন্নমূল মানুষের কাছে এক নির্ভরযোগ্য আস্থার নাম।


























