০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতির পর হরমুজে সহায়তা দেবে ইউরোপের দেশগুলো

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স যুদ্ধবিরতির পর সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এএফপি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়।

তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, তারা এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপে যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধবিরতির পর বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা করছে।

বর্তমানে ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয় এবং এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে প্রায় ৩,২০০ জাহাজে থাকা ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

মিত্র দেশগুলো তাদের বিবৃতিতে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইন স্থাপন ও নৌ চলাচলে বাধা দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি সচল করতে ন্যাটো ও অন্যান্য দেশকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশগুলো তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তা না দিলেও ভবিষ্যতের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কাঠামো ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসও জানিয়েছেন, তাদের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক অনুমোদনের ওপর।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, তবে তা সংঘাত শেষ হওয়ার পরই বাস্তবায়ন সম্ভব।

সূত্র: এএফপি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০৫:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
২১ Time View

যুদ্ধবিরতির পর হরমুজে সহায়তা দেবে ইউরোপের দেশগুলো

Update Time : ০৫:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স যুদ্ধবিরতির পর সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এএফপি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়।

তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, তারা এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপে যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধবিরতির পর বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা করছে।

বর্তমানে ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয় এবং এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে প্রায় ৩,২০০ জাহাজে থাকা ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

মিত্র দেশগুলো তাদের বিবৃতিতে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইন স্থাপন ও নৌ চলাচলে বাধা দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি সচল করতে ন্যাটো ও অন্যান্য দেশকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশগুলো তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তা না দিলেও ভবিষ্যতের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কাঠামো ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসও জানিয়েছেন, তাদের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক অনুমোদনের ওপর।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, তবে তা সংঘাত শেষ হওয়ার পরই বাস্তবায়ন সম্ভব।

সূত্র: এএফপি।