০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে: সরকারের নতুন মেগা পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সরকারের নির্বাচনি ইশতিহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের যোগাযোগ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যানজট চিরতরে দূর করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং দেশের অর্থনীতির চাকা আরও সচল রাখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১ মার্চ সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নথি থেকে মেগা প্রজেক্টগুলোর এই তথ্য জানা গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এবং পরবর্তী দুটি অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রক্ষেপণ নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সময়সীমা ও রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত বহুমুখী সেতুটি পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে যুক্ত করে জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব কমার পাশাপাশি বেনাপোল, দর্শনা স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সাথে পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে এই সেতুর জন্য নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই (প্রাইমারি স্টাডি) শুরু হয়েছে। স্টাডি শেষ হলে সেতুটি কোথায় নির্মাণ করলে সবচেয়ে লাভজনক হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।

উত্তরাঞ্চলের যানজট নিরসনে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বর্তমানে যমুনা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও, মূল সেতুটি চার লেনের হওয়ায় প্রবেশমুখে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকট বা ‘বটলনেক’ কাটাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করতে চায় সেতু বিভাগ।

সচিব জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু কোথায় করা যায়, দৈর্ঘ্য কেমন হবে এবং কত টাকা ব্যয় হবে—সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট-দেওয়ানগঞ্জ ঘাটসহ তিনটি সম্ভাব্য রুটের ওপর সমীক্ষা চলছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে দ্রুত পণ্য পরিবহনের জন্য এই রুটে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ।

কর্মকর্তারা জানান, আমদানি-রপ্তানিতে গতি আনতে এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের পূর্ব-পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে এটিকে ‘আউটার রিং সার্কুলার’-এর মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যানও সরকারের রয়েছে।

বিশাল কর্মযজ্ঞ ও বাজেট বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতায় চলমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভবিষ্যতের এই নতুন মেগা প্রজেক্টগুলোর জন্যই সিংহভাগ অর্থাৎ ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
৫৭ Time View

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে: সরকারের নতুন মেগা পরিকল্পনা

Update Time : ০৭:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সরকারের নির্বাচনি ইশতিহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের যোগাযোগ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যানজট চিরতরে দূর করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং দেশের অর্থনীতির চাকা আরও সচল রাখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১ মার্চ সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নথি থেকে মেগা প্রজেক্টগুলোর এই তথ্য জানা গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এবং পরবর্তী দুটি অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রক্ষেপণ নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সময়সীমা ও রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত বহুমুখী সেতুটি পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে যুক্ত করে জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব কমার পাশাপাশি বেনাপোল, দর্শনা স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সাথে পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে এই সেতুর জন্য নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই (প্রাইমারি স্টাডি) শুরু হয়েছে। স্টাডি শেষ হলে সেতুটি কোথায় নির্মাণ করলে সবচেয়ে লাভজনক হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।

উত্তরাঞ্চলের যানজট নিরসনে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বর্তমানে যমুনা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও, মূল সেতুটি চার লেনের হওয়ায় প্রবেশমুখে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকট বা ‘বটলনেক’ কাটাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করতে চায় সেতু বিভাগ।

সচিব জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু কোথায় করা যায়, দৈর্ঘ্য কেমন হবে এবং কত টাকা ব্যয় হবে—সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট-দেওয়ানগঞ্জ ঘাটসহ তিনটি সম্ভাব্য রুটের ওপর সমীক্ষা চলছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে দ্রুত পণ্য পরিবহনের জন্য এই রুটে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ।

কর্মকর্তারা জানান, আমদানি-রপ্তানিতে গতি আনতে এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের পূর্ব-পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে এটিকে ‘আউটার রিং সার্কুলার’-এর মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যানও সরকারের রয়েছে।

বিশাল কর্মযজ্ঞ ও বাজেট বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতায় চলমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভবিষ্যতের এই নতুন মেগা প্রজেক্টগুলোর জন্যই সিংহভাগ অর্থাৎ ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।